চুঁচুড়া: সকাল থেকেই মাথার উপরে পাক খেয়েছে সেনা কপ্টার। দুপুর পর্যন্ত পাণ্ডুয়া থেকে পহেলগাঁও যাওয়া পর্যটকরা বুঝতে পারছিলেন না, কোন ভূস্বর্গে তাঁরা এসেছেন। চারদিকে যুদ্ধযুদ্ধ পরিবেশ। হোটেলের জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে শুধু সিআরপিএফ জওয়ানদের সারি। রাস্তায় বুটের আওয়াজ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছিল না। দোকানপাট কিছুই খোলেনি। দিনভর হোটেলবন্দি থেকে জানালার কাচ সরিয়ে বাইরের পরিবেশ আঁচ করার চেষ্টা করেছেন সুমন মণ্ডল, শ্যামল ঘোষ, ইন্দ্রপূর্ণ মণ্ডল ও তাঁদের পরিবার। কিছুই ঠাহর করতে পারেননি। বুধবার রাতে সকলের মুখেই ছিল এক কথা, কাল শ্রীনগরে চলে যেতে চাই। আর নয়।
যদিও কেউই
স্পষ্ট বলতে পারেননি, দুঃস্বপ্নের প্রহর কখন শেষ হবে? এক দমবন্ধ পরিবেশে
মঙ্গলবার দুপুর থেকে হোটেলবন্দি হয়ে রয়েছেন পাণ্ডুয়ার চারটি ও কলকাতার
দু’টি পরিবার। তীব্র উদ্বেগে ঘুরতে যাওয়ার হাসিখুশি পরিবেশ হারিয়ে গিয়েছে
আগেই। চিন্তা শুধু কবে ফিরবেন পাণ্ডুয়ায় বা পাণ্ডুয়ার সিমলগড়ের বাড়িতে। কবে
ফিরবেন নিরাপদ, নিস্তরঙ্গ গ্রামে। সিমলাগড়ের ব্যবসায়ী সুমন মণ্ডল বলেন,
‘১৬ এপ্রিল কাশ্মীরে এসেছি। স্বপ্নেও ভাবিনি এমন আতঙ্কের পরিবেশ অপেক্ষা
করছে। ভূস্বর্গ উপভোগ তো মঙ্গলবার দুপুরেই মাটি হয়ে গিয়েছে। এখন দিনভর
শুধু ভাবছি, কবে বাড়ি ফিরব। গত ২৪ ঘণ্টায় নিজেদের মুখ ছাড়া অন্যকোনও
মানুষের মুখ দেখিনি। রাস্তাতেও মানুষ নেই।’ একই কথা বলছেন, জয়ন্ত সমাদ্দার।
তিনি বলেন, ‘২২ জন আমরা একই হোটেলে আছি। সকালে দেখেছি রাস্তায় কোনও
মানুষ নেই। বিকেলেও তাই। দিনভর মাথার উপরে পাক খেয়েছে বিমান। তীব্র গর্জন
করে উড়ে গিয়েছে একের পর এক বিমান। রাস্তায় ভারী বুটের শব্দ শুনেছি।
সিআরপিএফের টহল দেখেছি। আর ঘরে বসে সন্তানদের বুকে জড়িয়ে আতঙ্কের প্রহর
কাটিয়েছি।’
চুঁচুড়ার একটি সংস্থার সঙ্গে পাণ্ডুয়ার সিমলগড়ের দুটি
পরিবার, পাণ্ডুয়ার একটি ও কলকাতার কয়েকটি পরিবার গিয়েছিলেন পহেলগাঁওতে।
আশ্চর্য এই যে, মঙ্গলবার তাঁদের সকলেরই সেই মৃত্যু উপত্যকায় থাকার কথা ছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন