হাওড়া: বাবার মৃতদেহ ঝুলছে পুকুরের পাশে এক গাছে, আর ছেলের মৃতদেহ পড়ে আছে একটু দূরে ফ্ল্যাটের মেঝেতে। শনিবার সাতসকালে বেলুড়ে এই জোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে যায়। বেলুড়ের ঠাকুরণপুকুর এলাকায় একটি জলাশয়ের ধারে গাছে সুভাষ পাল (৭৬) নামে বৃদ্ধের দেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই জলাশয়ের কাছেই একটি আবাসনে তাঁরা থাকতেন। সেখানে খবর দিতে গিয়ে এলাকাবাসীরা দেখেন, ফ্ল্যাটের ভিতরে পড়ে রয়েছে সুভাষবাবুর ছেলে অজিত পালের (৩৮) মৃতদেহ। তাঁর গলায় গামছা জড়ানো। হতভম্ব প্রতিবেশীরা বেলুড় থানায় খবর দেন। পুলিস দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পারিবারিক অশান্তির জেরেই বাবা ও ছেলে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিসের।
বেলুড়ের ঠাকুরণপুকুর এলাকার গিরিশ ঘোষ রোডের
একটি আবাসনের একতলায় থাকতো এই পরিবারটি। বছরখানেক আগে বাড়ির গৃহকর্ত্রীর
মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই বাবা ও ছেলের মধ্যে ছোটখাট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে
ঝামেলা, অশান্তি লেগে থাকতো। ছেলে অজিত কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ
করতেন। বাবা সুভাষবাবু দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। ইদানিং অজিতের কর্মক্ষেত্রে
কোনও সমস্যা হওয়ার কারণে বাড়িতে মাঝেমধ্যেই অশান্তি চরমে উঠতো। এদিন
সাতসকালে আবাসন থেকে খানিকটা দূরে একটি পুকুরের ধারে গাছে সুভাষবাবুকে
ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান প্রাতঃভ্রমণকারীরা। তাঁদের মধ্যে অনেকেই
সুভাষবাবুকে চিনতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ছেলেকে খবর দিতে ছোটেন ওই
আবাসনে। কিন্তু ফ্ল্যাটে ঢুকে তাঁরা দেখতে পান, অজিতের দেহটি মেঝেতে পড়ে
রয়েছে। বেলুড় থানায় পুলিস দেহ দু’টি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে
আসেন মৃতদের আত্মীয় সুজয় পাল ও দিব্যেন্দু পাল। তাঁরা বলেন, রাতে বাবা ও
ছেলের মধ্যে খাবার নিয়ে অশান্তি হয়েছিল। এমন মাঝেমধ্যেই হতো। সংসারে
অশান্তির জন্যই এই ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক
বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, বাবার ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখে অজিত শোকে
ফ্ল্যাটে এসে নিজেও আত্মঘাতী হন। ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হওয়ার পর
দেহটি কোনওভাবে গামছা ছিঁড়ে মেঝেতে পড়ে যায়। দেহ দু’টির ময়নাতদন্তের
রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। এনিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা
রুজু করা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন