ডোমকল: ডোমকলে
আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার বিধায়ক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা সহ দুই দুষ্কৃতী।
ধৃতদের নাম ঋজু পাল ও সোমনাথ পাল। তাদের দু’জনের বাড়ি ডোমকল থানা এলাকায়।
শনিবার রাতে ডোমকলের ছাগলখালি মাঠে হানা দিয়ে একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড
কার্তুজ সহ তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিস। এরমধ্যে ঋজু পাল ডোমকল পুরসভার ৮
নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক জাফিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ। তার
রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পেতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
পুলিস সূত্রে
জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে খবর পায় ছাগলখালি এলাকায় দু’জন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে
ঘোরাফেরা করছে। এরপরই সেখানে হানা দেয় ডোমকল থানার পুলিস। পুলিস দেখেই
দু’জন পালানোর চেষ্টা করে। যদিও তাদের ধরে ফেলে পুলিস। তল্লাশি চালিয়ে ঋজুর
কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয়
সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ঋজু পাল ও সোমনাথ পাল সম্পর্কে দুই ভাই। ঋজু
শাঁখার ব্যবসায়ী। তবে সে শাসকদলের একজন নেতা। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক
কর্মসূচিতে তাকে ডোমকলের বিধায়কের সঙ্গে দেখা গিয়েছে। বিরোধীরা সোশ্যাল
মিডিয়ায় ঋজুর সঙ্গে বিধায়কের ছবিও প্রকাশ করে। বিরোধীদের দাবি, বিধায়ক
ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এলাকায় ভালোই দাপট ছিল ঋজুর। বছর কয়েক আগে ওই ওয়ার্ডের
তৎকালীন কাউন্সিলার প্রদীপকুমার চাকির সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগ ছিল তার
বিরুদ্ধে।
ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ পেতেই একযোগে তৃণমূলের দিকে
অভিযোগ শানিয়েছে বিরোধীরা। সিপিএমের ডোমকল এরিয়া কমিটির সম্পাদক
মোস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, এর আগে কুলটিতে বিধায়কের ঘনিষ্ঠ একজন
আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার হয়েছিল। এবার ডোমকলের বিধায়ক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা
গ্রেপ্তার হল। আসলে ভোটের আগে এলাকায় অশান্তি পাকাতেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে
দাপাদাপি করছে তৃণমূল।
যদিও ডোমকল টাউন তৃণমূল সভাপতি কামরুজ্জামান
মণ্ডল বলেন, কেউ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গ্রেপ্তার হলে তারজন্য দল কখনও দায়ী নয়।
এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের দল তা প্রশ্রয়ও দেয় না। আমরা
দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। তবে এবিষয়ে ডোমকলের বিধায়ক জাফিকুল
ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকী, মেসেজ করা হলেও
তার কোনও উত্তর দেননি।
পুলিসি হেফাজতে অভিযুক্তরা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন