কলকাতা: হায়দরাবাদের পর লখনউ। ব্যাট-বলের লড়াইয়ের মোড়কে ইডেনের সবুজ গালিচা আরও একবার হয়ে উঠছে বিরিয়ানির শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মঞ্চ!
সদ্য নিজামের শহরকে মোগলাই ডিশের সম্মুখ সমরে হেলায় হারিয়েছে কলকাতা। তাৎপর্যের হল, লখনউ সুপার জায়ান্টসের মতো লখনউ বিরিয়ানির সঙ্গেও আত্মিক সম্পর্ক আনন্দনগরীর। অযোধ্যার বিতাড়িত নবাব ওয়াজিদ আলি শাহ’র মাধ্যমেই মেটিয়াবুরুজে খুশবুদার সুস্বাদু খানার আবির্ভাব। তবে টানাটানির সংসারে মাংসের পরিবর্তে আলু দিয়েই কাজ চালাতে হতো নবাবের বাবুর্চিকে। লখনউয়ের মতো ঢিমে আঁচের ‘দম পোক্ত’ পদ্ধতিতে নয়, আলাদাভাবে বাসমতী চাল ও মাংস রান্না করে মেশানোতেও স্বতন্ত্র কলকাতার বিরিয়ানি। জিভে জল আনা নবাবি হেঁসেলের মতো খেলার দুনিয়াতেও লখনউ এবং কলকাতার অদ্ভুত মেলবন্ধন। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক কলকাতার তো বটেই, আবেগের মোহন বাগানের সঙ্গেও জড়িয়ে। গত মরশুমে ইডেনে এলএসজি’র সবুজ-মেরুন জার্সি পরে নামা সেই আবেগকেই দিয়েছিল উস্কে।
লখনউ বিরিয়ানির মধ্যে যেমন চিকেন বা মাটন, দলটার মধ্যে ঋষভ পন্থও ঠিক তাই। ২৭ কোটির ক্রিকেটারকে ঘিরেই গড়া হয়েছে দল। মালিক প্রকাশ্যে বলেছেন, দর ২৮ কোটি হলেও ঝাঁপাতেন। মুশকিল হল, চার ইনিংসে ১৯ রানে একেবারেই ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে তাঁকে। এমনকী, এখনও একটা বাউন্ডারিও মারেননি পন্থ। তবুও তিনি নির্বিকার। আভেশ খানের পরিবারের সঙ্গে পন্থের মোলাকাতের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে স্পষ্ট, লখনউ ক্যাপ্টেন আছেন চনমনে মেজাজেই। অন্তত ওয়াজিদের মতো নিজের ডেরায় কোণঠাসা নন তিনি। বরং টিমের বিশ্বাস, সঙ্কটের মুহূর্তে ঠিকই পরিত্রাতা হয়ে উঠবেন নেতা।
গুরুত্বপূর্ণ হল, পন্থকে সোমবার দেখাই গেল না ইডেনে। কোথায় রানে ফেরার জন্য মাথা গুঁজে সাধনামগ্ন থাকবেন, তা নয়, ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে ফিরে আসা বছর সাতাশের যুবক উধাও। পরে জানা গেল, যুবভারতীতে মোহন বাগানের সমর্থনে গলা ফাটানোকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি। ভাবা যায়! ক্যাপ্টেন গরহাজির, অগত্যা মেন্টর জাহির খানকে দেখা গেল দায়িত্ব নিতে। মাঠে ঢুকে পিচ দেখার পর রবি বিষ্ণোইকে নিয়ে পড়লেন জাহির। চার ম্যাচে মোটে তিন উইকেট, ১১.৮৬ ইকনমি রেটে একেবারেই বর্ণহীন দেখাচ্ছে লেগস্পিনারকে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন