কলকাতা: বুধবারই ফেরার দিন ছিল। কিন্তু, ফেরাটা যে এতটা মর্মান্তিক, বেদনাস্পর্শী হবে তা বোধহয় দুস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেননি কেউ। বহু প্রতিক্ষিত কাশ্মীর ভ্রমণের পর ফেরার জন্য বিমানের টিকিট কাটা ছিল তিনজনেরই। জীবন্ত অবস্থায় ফিরলেন শুধু স্ত্রী আর কন্যা। আর গৃহকর্তা কফিনবন্দি!
সদ্য আইএসসি
পরীক্ষা শেষ হয়েছে শুভাঙ্গীর। অনেকদিন ধরেই বাবা-মায়ের কাছে তার বায়না ছিল
ভূস্বর্গ ভ্রমণের। সেইমতো অভিভাবকরা তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেন, দ্বাদশ শ্রেণির
পরীক্ষা শেষ হলেই সোজা কাশ্মীর। ১৬ এপ্রিল সখেরবাজারের ফ্ল্যাট থেকে
স্ত্রী শর্বরী গুহ, কন্যাকে নিয়ে ভূস্বর্গের উদ্দেশে রওনা দেন কেন্দ্রীয়
সরকারি অফিসার সমীর গুহ। ১৭ তারিখ থেকে শুরু হয় ট্রিপ। শ্রীনগর, জম্মু, ডাল
লেক—তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেন তিনজনের ছোট্ট বাঙালি পরিবার। কলকাতায় দিদার
সঙ্গে চলত নিয়মিত ভিডিও কল। সমীরের শ্যালক সুব্রত ঘোষ বললেন, ‘দিনে অন্তত
দু’বার ভিডিও কল তো আসতই দিদার কাছে। কী খাওয়া হল থেকে শুরু করে কোথায়
কোথায় ঘোরা হল, ক’টা ছবি তোলা হল—সবটাই জানাত শুভাঙ্গী।’
মোট সাতদিনের
ট্রিপ। পঞ্চম দিন পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিল। ষষ্ঠ তথা শেষ দিন ছিল পহেলগাঁও
ভ্রমণ। দৃষ্টিনন্দন উপত্যকায় একদিনেরই ট্রিপ। সোমবার রাতেও কথা হয়েছিল
সমীরবাবুর কথা হয়েছিল শ্যালকের সঙ্গে। সুব্রতবাবুর কথায়, ‘ওরা জানিয়েছিল,
মঙ্গলবার সকালেই পহেলগাঁওতে পৌঁছে যাবে। সারাদিন কাটিয়ে তাড়াতাড়ি রিসর্টে
ফেরার কথা। কারণ বুধবার সকালেই ফেরার বিমান। দ্রুত চেক আউট করে পৌঁছতে হবে
শ্রীনগর এয়ারপোর্ট।’
বিকেল থেকে সংবাদমাধ্যমেই সমীর গুহর পরিবার জানতে
পারে, পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বহু মানুষ। ‘দিদি,
জামাইবাবু, ভাগ্নি ঠিক আছে তো?’—উৎকণ্ঠা নিয়ে একের পর এক ফোন করতে শুরু
করেন সুব্রতবাবু। কিন্তু, ফোন যাচ্ছিল না। এদিন সখেরবাজারের ফ্ল্যাটে এসে
তিনি জানালেন, রাত ৩টে নাগাদ গাড়ি চালকের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন দিদির
সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তখনই জানতে পারি, জঙ্গিদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছেন
জামাইবাবু। জখম হয়েছে দিদিও। তবে সুস্থ রয়েছে ভাগ্নি।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন