কলকাতা: কসবায় শিক্ষকের উপর লাথি। এবার বাঁশদ্রোণীতে আরোহী হেলমেট না পরায় বাইক চালককে সপাটে চড় মারল উর্দিধারী পুলিস। দু’দিন আগেই পুলিস কমিশনার মনোজকুমার ভার্মার ‘ধৈর্য্যশীল’ হওয়ার বার্তার পরও হুঁশ ফিরল না বাহিনীর। লালবাজার প্রধানের বার্তাকে অবজ্ঞা করে আম জনতার গায়ে হাত তোলেন বাঁশদ্রোণী থানার কর্তব্যরত অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব ইনসপেক্টর আমিনুর রহমান। তাঁর বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় ব্যবস্থার পথে হাঁটছে লালবাজার।
রাতের বেলায় বাঁশদ্রোণী ও
নরেন্দ্রপুর থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় ডিউটিতে দেখা যায় এএসআইকে। রবিবার
রাতেও সেখানেই ডিউটি করছিলেন বাঁশদ্রোণী থানার এই পুলিসকর্মী। সেই পথ দিয়েই
বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দা শামি শেখ। তিনি হেলমেট
পরলেও পিছনের আসনে থাকা আরোহীর মাথা ছিল ফাঁকা। ঘাপটি মেরে থাকা এএসআই
শামিকে দাঁড় করান। চান লাইসেন্স। আমিনুর বলেন, ‘আরোহীর হেলমেট নেই। তাই
জরিমানা লাগবেই।’ চালক জানান, ‘ডিজি লকারে রয়েছে লাইসেন্স। আপনি চেক করে
নিতে পারেন।’ আর্জি শুনেই লাইসেন্সের ‘ডিজিটাল সিজার’ ও অনলাইনে নথি
বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে কী কী সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সে বিষয়টি বাইকচালককে না
বুঝিয়েই সপাটে চড় কষিয়ে দেন ওই এএসআই আমিনুর। সেই সময় নিজের মোবাইল
ক্যামেরায় পুলিসকর্মীর অভব্য ব্যবহারের ভিডিও করছিলেন শামি। সেই চড়ের ভিডিও
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন বাইকচালক। এরপরেই ওই এএসআইকে কেন্দ্র করে
এলাকায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। অনলাইনে লালবাজারেও অভিযোগ করেন
নির্যাতিত।
কর্তব্যরত একজন এএসআই কীভাবে বাইকচালককে চড় মারলেন?
এপ্রসঙ্গে, ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কমিশনার (সাউথ সাবার্বান ডিভিশন) অমিত কুমার
সাউ বলেন, ‘ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এএসআইয়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
নেওয়া হচ্ছে।’ লালবাজার সূত্রের দাবি, আমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয়
তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিসের অন্দরমহল জানাচ্ছেন, চালক লাইসেন্স দিতে না
চাইলে, সেক্ষেত্রে যে কোনও নথি বা বাইক বাজেয়াপ্ত করতে পারতেন কর্তব্যরত
এএসআই। কিন্তু, গায়ে হাত তোলা ‘পুলিসিং’এর মধ্যে পড়ে না। উল্লেখ্য, নথি
যাচাই করানোর ক্ষেত্রে ডিজি লকার ব্যবহার করতে পারেন গাড়ি-বাইক মালিকরা।
কিন্তু, ট্রাফিক জরিমানার ক্ষেত্রে কলকাতার সব জায়গায় অনলাইনে যানবাহনের
নথি (লাইসেন্স/আরসি/ট্যাক্স/ইনসিওরেন্স) বাজেয়াপ্ত করা যায় না। শুধুমাত্র
ব্যাঙ্কশাল কোর্টের অন্তর্ভুক্ত ৪টি ট্রাফিক গার্ড এলাকাতেই অনলাইনে নথি
বাজেয়াপ্ত করা যায়। কারণ সেখানে ভার্চুয়াল কোর্টের সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে,
সাধারণত স্পটফাইন বা সাইটেশন কেসের করার ক্ষেত্রে ন্যূনতম সার্জেন্ট কিংবা
সাব-ইনসপেক্টর পদমর্যাদার অফিসারকে নির্দিষ্ট করা হয়। কিন্তু, আমিনুর এই
কাজের জন্য নির্দিষ্ট নন। এক্ষেত্রে ওই এএসআইকে কোনও পদস্থ আধিকারিক ‘বিশেষ
ক্ষমতা’ দিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন