নয়াদিল্লি: কেন্দ্রের বিরুদ্ধে হিন্দি আগ্রাসনের অভিযোগ তুলেছে তামিলনাড়ুর মতো রাজ্য। নতুন শিক্ষানীতিতে তিনভাষার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার তীব্র বিরোধিতা করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তাঁর সাফ যুক্তি— এর মাধ্যমে অহিন্দিভাষীদের মধ্যে হিন্দি অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। একই বিষয়ে সরব বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিও। এর পরেও বিতর্ক থামছে না। চলতি শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলির জন্য পাঠ্যপুস্তকের অনুমোদন দিয়েছে এনসিইআরটি। দেখা যাচ্ছে, ইংরেজি ভাষায় হলেও বেশ কয়েকটি বইয়ের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। রোমান হরফে হিন্দি ভাষায় লেখা হয়েছে বইগুলির নাম। ষষ্ঠশ্রেণির ইংরেজি পাঠ্যপুস্তকের নাম ছিল ‘হানিসাকল’। এখন সেই বইয়ের নামকরণ করা হয়েছে ‘পূরবী’। হিন্দিতে যার অর্থ পূর্বদিক। হিন্দুস্তানি ক্লাসিকাল সঙ্গীতে এই নামে একটি রাগও রয়েছে।
পাঠ্যপুস্তকের এই নাম বদলে অবাক অনেকে। তাঁরা
বলছেন, এতদিন ভাষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই এনসিইআরটি অনুমোদিত পাঠ্যপুস্তকের
নামকরণ করা হতো। ষষ্ঠশ্রেণির অঙ্ক বইয়ের ইংরেজি নাম ছিল ‘ম্যাথমেটিক্স’।
হিন্দিতে এই বইয়ের নামকরণ করা ছিল ‘গণিত’। উর্দুতে ছিল ‘রিয়াজি’। এখন
হিন্দি এবং ইংরেজি উভয় বইয়েরই নাম ‘গণিত প্রকাশ’। হঠাৎ কেন এই বদল আনা হল,
তার কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। এই নিয়ে নীরব এনসিআরটিও।
ইংরেজি পাঠ্যপুস্তকের নামে বদল ঘটেছে প্রায় সব ক্লাসের জন্যই। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি পাঠ্যপুস্তকের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মৃদঙ্গ’। তৃতীয় শ্রেণির বইয়ের নাম ‘সন্তুর’। দু’টিই বাদ্যযন্ত্রের নাম। তবে সব বইয়েরই যে হিন্দি নামকরণ করা হয়েছে, এমন নয়। ষষ্ঠশ্রেণির জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বইয়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কিউরিওসিটি’। আর এর হিন্দি বইয়ের নাম ‘জিজ্ঞাসা’। উর্দু বইয়ের নাম ‘তাজাসুস’। সমাজবিজ্ঞানের বইয়ের ইংরেজি নাম ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি : ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’। হিন্দিতে বইয়ের নাম ‘অধ্যয়ন: ভারত অউর উসকে আগে’।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন