কলকাতা: ভেজাল ওষুধ-কাণ্ডে ফের সামনে এল উত্তরপ্রদেশ-যোগ। শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বেলেঘাটার একাধিক ওষুধের দোকানে বিশাল পুলিস বাহিনী নিয়ে হানা দেন ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা। প্রথমে তাঁদের দোকানে ঢুকতে বাধা দেন ব্যবসায়ীরা। পুলিসের হস্তক্ষেপে সেই বাধা সরিয়েই দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। মৃগীর সন্দেহজনক ওষুধের হদিশ মেলে। ইতিমধ্যেই মূল নির্মাতা সংস্থা জানিয়েছে, ওষুধটি জাল করা হয়েছে। এরপরই চাউলপট্টি রোডের দু’টি পাইকারি ওষুধ ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। গোডাউনও সিল করে দেওয়া হয়েছে। আর এক দোকানদার জেরার মুখে নিজের দোষ কবুল করে নিজের লাইসেন্স আর ব্যবহার করবেন না বলে জানিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, নিজেই তাঁর লাইসেন্স জমা দিয়ে দিয়েছেন ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকদের কাছে। জাল ওষুধ-কাণ্ডে এনিয়ে চারটি দোকান বন্ধ করে দিল স্বাস্থ্যদপ্তর। তার মধ্যে একজনের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তিনজন দোকানদারই শুক্রবারের তল্লাশির সময় জানিয়েছেন, তাঁরা জাল ওষুধ কিনেছিলেন উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের এক ওষুধ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে। প্রসঙ্গত, এর আগেও উত্তরপাড়ার এক ই-ফার্মেসির গোডাউনে উদ্ধার হওয়া ভেজাল ওষুধে উত্তরপ্রদেশ-যোগ মিলেছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কিছুদিন আগে এই তল্লাটেই হানা দেওয়া ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসারদের মোবাইলে দেশের চার জায়গা থেকে হুমকি ফোন আসে। দায়ের হয় মামলা।
একটি নামকরা ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা কিছুদিন আগে গুজরাত এবং তেলেঙ্গানা সরকারকে জানায়, তাদের তৈরি মৃগীর একটি ওষুধ জাল করা হয়েছে। জাল ওষুধ ওই দুই রাজ্যে পাওয়া যাচ্ছে। সেই খবরের সূত্র ধরে গুজরাত এবং তেলেঙ্গানা সরকার বিভিন্ন জায়গায় হানা দেয়। বাজেয়াপ্ত করে মৃগীর ভেজাল ওষুধ। জানা যায়, ওষুধগুলি এসেছে কলকাতার চাউলপট্টি এলাকার একাধিক দোকান থেকে। খবর যায় স্বাস্থ্যভবনে। শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তাদের নির্দেশে শুক্রবার সকাল থেকে অভিযান চলে বেলেঘাটায়। সহকারী অধিকর্তা সহ ১২ জন ড্রাগ ইনসপেক্টরের টিম হানা দেয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন