নয়াদিল্লি: টার্গেট পাকিস্তান। কারণ, ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জন্ম নেওয়া এই দেশই উপমহাদেশে সন্ত্রাসবাদের আঁতুড়ঘর। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর এই অবস্থান আরও কঠোর করছে ভারত। বৈসরণ উপত্যকায় নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পরই ভারতে আসা পাক নাগরিকদের দেশে ফেরার নির্দেশ জারি হয়েছে। বাতিল করে দেওয়া হয়েছে পাক ভিসা। বন্ধ হচ্ছে সীমান্তও। আর শুক্রবার দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের ফোন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
রাজ্যগুলিকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, যেখানে যত পাকিস্তানি রয়েছেন, তাঁদের খুঁজে বের করুন। আর এখনই দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। এখানেই শেষ নয়, যে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়েছে, অথচ তাঁরা ফিরে যাননি, তাঁদের আগে খুঁজে বের করার উপর জোর দিয়েছেন শাহ। যদিও ‘লং টার্ম’ এবং কূটনৈতিক ভিসায় যাঁরা এদেশে রয়েছেন, তাঁদের পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে হবে না বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই নির্দেশ তাঁদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।
মানেটা পরিষ্কার—খুঁজে খুঁজে বের করতে হবে পাকিস্তানিদের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবও প্রত্যেক রাজ্যের মুখ্যসচিবদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এরই মধ্যে দেশজুড়ে পাকিস্তানিদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার তাদের রাজ্যে বসবাসকারী ১১৮ জন পাক নাগরিককে ইতিমধ্যে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ৩২ জন আটারি সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ফিরে গিয়েছেন। তবে ঠিক কতজন পাক নাগরিক উত্তরপ্রদেশে আছেন, তা প্রকাশ করেনি যোগী প্রশাসন। একটি সূত্রে খবর, প্রায় ১৫০০ পাকিস্তানি যোগীরাজ্যে বসবাস করেন।
পাক নাগরিকদের ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছে আর এক বিজেপিশাসিত রাজ্য গুজরাতও। এখন সেখানে মোট ৪৩৮ জন পাকিস্তানি দীর্ঘমেয়াদি ভিসায় রয়েছেন। আর সাতজন রয়েছেন স্বল্পমেয়াদি ভিসায়। এঁদের সকলকেই দেশে ফেরত পাঠাতে বিশেষ টিম গড়া গয়েছে। কাজে লাগানো হয়েছে পুলিসের সন্ত্রাসদমন শাখা ও স্পেশাল অপারেশন গ্রুপকেও। গুজরাত প্রশাসন সাফ জানিয়েছেন, লং টার্ম ভিসাও দেখা হবে না। প্রত্যেক পাকিস্তানিকেই ফেরত পাঠানো হবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন