করিমপুর: চৈত্র সেলের বাজারে কেনাকাটায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাড় মিলছে। কোথাও আবার একটি কিনলে তার সঙ্গে বিনামূল্যে আরও একটি মিলছে। এই সময় এমন লোভনীয় ছাড় দেওয়ায় দোকানে ভিড় বেড়েছে ক্রেতাদের। ভাল বিক্রি হওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা। জানা গিয়েছে, প্রথমে মন্দা গেলেও এবার ঈদের মুখে চাঙ্গা হয়েছিল বাজার। তারপরেই শুরু হয়েছে চৈত্র সেলের কেনাকাটা। পয়লা বৈশাখে বহু পরিবারে অনেক আগে থেকে নতুন পোশাক পরার রেওয়াজ রয়েছে। নববর্ষে পরিবারের সদস্যদের জন্য বহু মানুষ পোশাক কেনেন। আর বাজার ধরতে ব্যবসায়ীরা এই সময় কেনাকাটায় আকর্ষণীয় ছাড় দেন। অনেকে সারা বছর জমে থাকা পোশাক কম দামে বিক্রি করেন।
করিমপুরের ব্যবসায়ীরা জানান, পুজো, ঈদ আর পয়লা বৈশাখের আগেই কেনাকাটা বাড়ে। পয়লা বৈশাখকে মাথায় রেখেই চৈত্র সেলের রমরমা বাড়ে। কারণ পয়লা বৈশাখের আগে চৈত্র মাসের সেলের বাজারে দোকানের বিভিন্ন জিনিসের দামের উপর ছাড় দিয়ে বিক্রি করা হয়। আগে দোকানের পুরনো স্টক চৈত্র সেলে বিক্রি করা হত। নতুন বছরে গুদামে পড়ে থাকা কাপড় জামা বিক্রি করে ফেলাই ছিল উদ্দেশ্য। কিন্তু এখন সেল উপলক্ষ্যে নতুন মাল তৈরি করা হয় এবং শুধুমাত্র সেলের বাজারে বিক্রি করার জন্য সেই মাল পাইকারি দামে কিনে আনেন ব্যবসায়ীরা। দোকানিরা সেলের জন্যই তৈরি নতুন পণ্য বিক্রি করেন। শুধুমাত্র লাভের মার্জিন কম রাখেন। চৈত্র সেলে বিক্রি হওয়া জিনিসের মধ্যে জামাকাপড় প্রধান হলেও জুতো থেকে সাজের জিনিসও এই এক মাস সেলের বাজারে বিক্রি হয়। বহু মানুষ দোকান গুলোতে কম দামে জিনিস কিনতে ভিড় করেন। এই রেওয়াজ অনেক পুরনো।
এবছরেও গত এক সপ্তাহে সেই সব দোকানগুলোতে খুব ভাল বিক্রি হয়েছে। করিমপুরের এক বস্ত্র ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ বলেন, পুজো এবং ঈদের সময় ছাড়াও চৈত্র মাসের শেষে সেলের ভাল বেচাকেনা হয়। এবারেও কয়েকদিন ক্রেতাদের চাপ এবং বিক্রি দুটোই ভাল ছিল। পয়লা বৈশাখের আগে বছরের শেষ রবিবার ছুটির দিনে সেলের বাজারে লোকজনের ভিড় চোখে পড়ার মত। এদিন বাজারে আসা করিমপুরের সুস্মিতা সরকার বলেন, পুজোর সময়ে তো দামি জিনিসের কেনাকাটা হয়। আর কিছু জিনিস অনলাইনেও কেনাকাটা করা হয়। তবে সেলের সময় বাজারের দোকানে দোকানে ঘুরে কম দামে জিনিস কেনার অন্যরকম আনন্দ রয়েছে। করিমপুর নিয়ন্ত্রিত বাজার চত্বরে সপ্তাহের প্রতি বুধবারের হাট বসে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন