নয়াদিল্লি: উপলক্ষ্য ছিল সিভিল সার্ভিস ডে। অর্থাৎ প্রশাসনিক আধিকারিক দিবস। সেই দিনকে পালন করার অনুষ্ঠানে নতুন এবং পুরনো আমলাদের প্রশাসনের পাঠ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি যে পাঁচ বছর অথবা ২৫ বছরের ভারত নয়, এক হাজার বছরের ভারত নির্মাণের রূপরেখা নিয়েছেন, সেকথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, গত ১০ বছর ধরে আমরা যে সব প্রকল্প নিচ্ছি, যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, সেটা এক হাজার বছরের ভারতের ভবিষ্যৎ স্থির করে দিচ্ছে। আধিকারিকদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মনে রাখবেন আপনাদের উপর নির্ভর করছে এই প্রকল্পের সাফল্য। এজন্য নিজের মনপ্রাণ সমর্পিত করুন। নরেন্দ্র মোদি বিগত ১০ বছর ধরে একাধিকবার বলে এসেছেন যে, ভারতের পক্ষে যত ভালো ভালো কাজ সবই তাঁকে দিয়ে করার জন্য পাঠিয়েছেন ঈশ্বর। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন করে সেই মহিলা সংরক্ষণ বিল সংক্রান্ত আলোচানয় বলেছিলেন, অনেকেই এই বিল পাশ করানোর চেষ্টা করেছে। কেউ পারেনি। আমার জন্যই এই বিল অপেক্ষা করছিল। ঈশ্বর আমাকেই মনোনীত করেছেন। এরপরও মোদি পরবর্তী সময়ে বলেছেন তিনি ঈশ্বরের দূত। এহেন মোদি সোমবার বলেছেন, প্রকৃত দেবতা জনতাই। ২০২৩ সালের সঙ্গে ২০২৫ সালের পার্থক্য হল, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে মোদির আসন ৩০৩ থেকে ২৪০ আসনে নেমে এসেছে। যারা এই ব্যবধানের রচয়িতা, সেই ভারতবাসীকে মোদি বলেছেন, অতিথি দেব ভবর মতোই দেশবাসীও দেবতা। সোমবার প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, গালভরা বড় বড় প্রকল্প ঘোষণা করলেই দেশের উন্নতি হয়ে গেল এমন নয়। সেইসব প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছল কি না, সেটা দেখা দরকার। কারণ, নাগরিকই দেবতা। মোদির পরামর্শ, গরিবের কথা ভাববেন। গরিবের কাছে যান। গরিবের কথা শুনতে হবে। গরিব মানুষের জীবনের উন্নতি করতে হবে। প্রশ্ন উঠছে মোদি হঠাৎ আত্মসমালোচনার সুরে গালভরা প্রকল্প ঘোষণার সমালোচনা করছেন কেন? তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের সবথেকে বড় অভিযোগ হল, জুমলা সরকার। অর্থৎ প্রতি বছর লালকেল্লা থেকে মোদি এবং বাজেটে অর্থমন্ত্রী নিত্যনতুন প্রকল্প ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই প্রকল্পগুলির কার্যকরী বাস্তবায়ন হয় না। বহু প্রকল্পই ঘোষণার স্তরেই রয়ে যায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন