চুঁচুড়া: ‘১৭ বছরের বেশি সময় ধরে জওয়ানের দায়িত্ব পালন করেছেন আমার স্বামী। তিনি নিজের সীমান্ত চেনেন না, এটা আমি বিশ্বাস করি না।’—পাকসেনার হাতে আটক বিএসএফ জওয়ান পূর্ণম সাউয়ের স্ত্রী রজনী সাউ সোমবার তাঁর স্বামী সম্পর্কে এমনই আস্থা প্রকাশ করেন। পূর্ণমের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিপদের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে তাঁর এই দৃঢ় বক্তব্য। এদিন পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে বিমানে পাঠানকোট রওয়ানা হয়ে গিয়েছেন রজনী। তার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বারবারই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। নিজের ‘সন্দেহ’ প্রসঙ্গে তিনি বিস্তারিত ব্যাখা দেননি। তবে তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ দাবি, ‘কিছু তো গোপন করা হচ্ছে!’
এদিন রিষড়ার বাড়ি থেকে ছোট ছেলে ও আত্মীয়দের নিয়ে বিমানবন্দরে
যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রজনী সাউ। তিনি বলেন, ‘একজন জওয়ান ১৭
বছর ধরে সীমান্ত পাহারার কাজ করছেন। কত দূর তাঁর ‘সরহদ’ (সীমানা), তা তিনি
জানবেন না? কী করতে হয় আর কী করতে নেই, তা জানবেন না তিনি? আমি বিশ্বাস
করি না।’
রজনীর আরও অভিযোগ, ‘ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও বিএসএফের তরফে
পরিবারকে কিছু জানানো হয়নি। আমার স্বামীর বন্ধুরাই এই দুঃসংবাদ আমাদের
জানিয়েছেন। বিএসএফ কর্তারা এসেছিলেন পরে।’ ‘কিন্তু একজন জওয়ানের পরিবারকে
কেন বাহিনীর তরফে সবটা জানানো হবে না?’—জরুরি প্রশ্ন তুলেছে পরিবার।
বিএসএফ কর্তারা বলছেন, ‘আমরা সব দেখছি। কথা চলছে।’
রজনীর দাবি, ‘কিন্তু
গত ছ’দিনেও আমার স্বামীর বর্তমান অবস্থা আমরা জানতে পারিনি। কেউ আমাকে
জিজ্ঞাসা করেননি, আমি খাচ্ছি কি না। আমার ছোট্ট ছেলেটি তার বাবার সঙ্গে
প্রতিদিন ভিডিও কলে কথা বলে। ছ’দিন ধরে সে বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারেনি।
কেউ আমাকে জানতে চেয়েছেন, আমি সেই ছোট্ট শিশুকে কীভাবে সামলাচ্ছি?’ সজল
চোখে রজনী বলেন, ‘আমার স্বামীকে আগে ফিরিয়ে দাও, তারপর সবার সব কথা
শুনব।’
এদিন সাউ পরিবারকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে এসেছেন রিষড়া
পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় মিশ্র। তিনি বলেন, ‘রজনী দেবীর যাত্রার উদ্দেশ্য
সফল হোক, এই প্রার্থনাই করি। এদিন এয়ারপোর্টে বিএসএফ কর্তারাও এসেছিলেন।
তাঁরাও সঙ্গে যাচ্ছেন কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।’
সাউ পরিবার আগেই
জানিয়েছিল যে রজনী দেবী পাঠানকোট সীমান্তে যাবেন। অন্তঃসত্ত্বা ওই মহিলার
শারীরিক জটিলতাসহ নানা কারণে সেই যাত্রা পিছিয়ে যায়। সোমবার তিনি তাঁর
আত্মীয়দের নিয়ে রওনা হয়ে গিয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রজনী দেবী
পাঠানকোটে গিয়ে তাঁর স্বামীর ব্যাটালিয়ানের কম্যান্ডিং অফিসারের সঙ্গে
দেখা করবেন। সেখানে সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া না পেলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে
প্রধানমন্ত্রীর দরবারে ধর্না দেবেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন