বাঁকুড়া: ‘বাইরে ৪০ ছুঁইছুঁই তাপমাত্রা। টাকার প্রয়োজন? কোনও চিন্তা নেই। বাড়িতে বসেই অর্থ রোজগার করতে চাইলে আমাদের সঙ্গে জুড়ে থাকুন। শুধুমাত্র লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করলেই পাওয়া যাবে টাকা।’ এমন বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে বাঁকুড়াবাসী। ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হওয়ার ব্যাপারে বাঁকুড়া জেলা পুলিস প্রচার শুরু করেছে। প্রতারকরা গৃহবধূদেরই বেশি টার্গেট করছে বলে পুলিস জানিয়েছে। বিষ্ণুপুরের এক বধূ প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ৩২ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন বলে বাঁকুড়া সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিকরা জানিয়েছেন। ওই বধূর পাশাপাশি বাঁকুড়া সদর সহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকার অনেকে লক্ষাধিক টাকা প্রতারকদের দফায় দফায় দিয়েছেন বলে বাঁকুড়া পুলিসের সাইবার ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এ ব্যাপারে বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, বাড়িতে
বসে টাকা রোজগারের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারকরা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
আমাদের জেলায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন টাকা খুইয়েছেন। ওইসব ঘটনায় মামলা রুজু
করে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার
করছি।
বাঁকুড়া সাইবার ক্রাইম থানার এক আধিকারিক বলেন, কয়েক মাস আগে
বিষ্ণুপুরের ওই বধূ প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। প্রতারকদের কথামতো দফায়
দফায় তিনি ওই টাকা দিয়েছিলেন। পরে তিনি পুলিসের দ্বারস্থ হন। জেলার
অন্যান্য থানা এলাকাতেও অনেকে প্রতারিত হয়েছেন। কর্মসূত্রে বাঁকুড়ায় থাকা
হুগলির এক বাসিন্দার থেকেও প্রতারকরা কিছুদিন আগে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা
হাতিয়ে নিয়েছে। দৈনিক কাজের পাশাপাশি বাড়তি রোজগারের আশায় সোশ্যাল মিডিয়ায়
ওই ব্যক্তি প্রতারকদের খপ্পরে পড়েছিলেন।
কীভাবে প্রতারকরা টাকা গায়েব
করছে? সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মূলত দুইভাবে ‘ওয়ার্ক
ফ্রম হোমের’ প্রলোভন দিয়ে টাকা হাতাচ্ছে প্রতারকরা। প্রথমত, হাই রিটার্নের
লোভ দেখিয়ে স্টক মার্কেটে ট্রেডিং ও বিনিয়োগের মাধ্যমে। দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল
মিডিয়ার বিভিন্ন পেজে বা ওয়ালে লাইক ও কমেন্ট করতে বলা হচ্ছে। বিভিন্ন
সংস্থার পেজ, ওয়েবসাইট শেয়ার ও রেটিং করার জন্যও টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
দেওয়া হচ্ছে। লাইক, কমেন্ট, রেটিং বা শেয়ার পিছু ২০-৩০ টাকা করে দেওয়া
হচ্ছে। তারজন্য আগাম ৫০০-১০০০ টাকা জমা নেওয়া হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যে
মূলধনের সঙ্গে বাড়তি আয়ের টাকা যোগ করে ইউপিআই বা অন্যান্য পেমেন্ট মারফত
ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পরের দফায় দ্বিগুণ টাকা জমা করতে বলা হচ্ছে। একইভাবে আয়
সমেত টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এভাবে কয়েকবার দেওয়ার পর জমা টাকার পরিমাণ
অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। তখন হঠাৎ করেই টাকা ফেরত বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তারপর
থেকে আগের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য দ্বিগুণ টাকা জমা দিতে বলা হচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন