কলকাতা: যোগ্য হয়েও কেন তাঁরা চাকরিহারা? কারা যোগ্য, আর কারাই বা অযোগ্য? এই প্রশ্ন তুলে বুধবার রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট ইনসপেক্টর অব স্কুলস বা ডিআই অফিসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীরা। সকাল থেকে আন্দোলন চলে আসানসোল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, কৃষ্ণনগর, তমলুক, সিউড়ি, বারাসত, চুঁচুড়ায়। কসবায় কলকাতা জেলার ডিআই অফিসে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পুলিসের বিরুদ্ধে নির্বিচারে লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলেছে বিক্ষোভকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কলকাতার পুলিস কমিশনার মনোজ ভার্মা বলেছেন, ‘পুরো ফুটেজ আমরা দেখছি। একটা অংশ দেখানো হচ্ছে। যে ছবি দেখানো হচ্ছে, তা কাম্য নয়। পুলিস এমন অ্যাকশন কেন নিল, তাও দেখতে হবে। রিপোর্ট চেয়েছি।’
ঘটনার সূত্রপাত এদিন দুপুরে। ‘ডিপ্রাইভড টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর দাবি, কসবার ডিআই অফিসে তাঁরা ডেপুটেশন জমা দিতে গিয়েছিলেন। পুলিসের গার্ডরেল সরিয়ে, গেটের তালা ভেঙে ডিআই অফিসের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। চাকরিহারাদের দাবি, এরপরেই তাঁদের উপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করে পুলিস। এমনকী এক পুলিস কর্মীর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের লাথি মারার অভিযোগও তোলা হয়েছে। কলকাতা পুলিসের অবশ্য পাল্টা দাবি, কসবা ডিআই অফিসের বাইরে এদিন প্রথমেই বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়েছিল একদল বিক্ষুব্ধ জনতা।
লালবাজার সূত্রে খবর, সেই ঘটনায় জখম হয়েছেন কসবা থানার সার্জেন্ট তন্ময় মণ্ডল, দু’জন মহিলা সহ মোট পাঁচজন কনস্টেবল। তাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। লালবাজারের এক কর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে, ক্ষয়ক্ষতির রোধ করতে পুলিস বাধ্য হয়ে হাল্কা বলপ্রয়োগ করে। তদন্ত চলছে।’ এসএসডি ডিসি জানিয়েছেন, অফিস ভাঙচুরের ব্যাপারে ডিআইয়ের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। স্বতঃপ্রণোদিত একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় পাঁচজন আন্দোলনকারীকে আটকও করে পুলিস। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এপ্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর প্রশ্ন, ‘চাকরিহারারা ডিআই অফিসে কেন গিয়েছেন? মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বিষয়টি দেখছেন। আগ্রাসী আন্দোলন চালিয়ে গেলেও সরকার তাঁদের আইনি প্রতিরক্ষা দেবে।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন