ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বাড়ছে যৌনরোগ, হাসপাতালে চলছে কাউন্সেলিং - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫

ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বাড়ছে যৌনরোগ, হাসপাতালে চলছে কাউন্সেলিং

ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বাড়ছে যৌনরোগ, হাসপাতালে চলছে কাউন্সেলিং

 কাটোয়া: পেটের তাগিদে ভিনরাজ্যে কাজে যাচ্ছেন অনেক যুবক। সেখানে গিয়ে কাঁচা টাকা রোজগার হচ্ছে প্রতিদিন। ভিনরাজ্যের হোটেলে গিয়ে তারা রাতভর সেই টাকা ওড়াচ্ছে মক্ষিরানিদের পিছনে। কাটোয়ায় অল্প বয়সি পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে বাড়ছে যৌনরোগ। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে কাউন্সেলিং করতে গিয়ে এমনই তথ্য বেরিয়ে আসছে। ঘটনায় উদ্বিগ্ন কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার।


সুপার বিপ্লব মণ্ডল বলেন, ভিনরাজ্য থেকে ফিরে হাসপাতালের আইসিটি বিভাগে এসে জানতে পারছে, তারা নানা যৌনরোগে ভুগছে। কাটোয়া মহকুমাজুড়ে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাদের কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে। প্রতিটি এলাকায় সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে আইসিটি বিভাগ রয়েছে। সেখানেও কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে।সমস্যা হচ্ছে, অল্প বয়সিরা যৌনরোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরছে। কিন্তু লজ্জায় তারা পরিবারের সদস্যদের জানাচ্ছে না। তাতেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিয়ম হচ্ছে, যৌনরোগ আক্রান্তের পরিবারের সদস্যদেরও রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়। কিন্তু কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের আইসিটি বিভাগের কর্মীদের কাছে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের না জানানোর আবদার করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে গ্রামে স্বাস্থ্য শিবিরের মাধ্যমে রক্ত পরীক্ষা করানো হচ্ছে। তাছাড়া, অন্য উপায়ে ওই রোগীর পরিবারের সদস্যদের রক্ত পরীক্ষা করানো হচ্ছে।


কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের আইসিটি বিভাগের কাউন্সেলার হেমন্ত মালিক বলেন, অল্প বয়সি পরিযায়ী শ্রমিকরা যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকেই এডস ছাড়াও অন্যান্য উপসর্গে ভুগছেন। তাঁরা আমাদের কাছে আসছেন কাউন্সেলিংয়ের জন্য। আমাদের কাছে প্রথমে স্বীকার করছেন না। পরবর্তীকালে তাঁরা রক্ত পরীক্ষার পর ব্যাপারটি স্বীকার করছেন। তবে আমরা তাঁদের নিয়মিত কাউন্সেলিং করাচ্ছি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া মহকুমার পাঁচ ব্লকেরই কয়েক হাজার যুবক কেরল, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, চেন্নাইয়ে পাড়ি দিচ্ছে। কেউ রাজমিস্ত্রির কাজে কেরল, চেন্নাইয়ে পাড়ি দিচ্ছে। আবার কেউ সোনা-রুপোর কাজের জন্য রাজস্থানে যাচ্ছে। অনেকে হোটেলে কাজের জন্য গুজরাতে যাচ্ছে। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের আইসিটি বিভাগের দাবি, ১৮-৪০ বছর বয়সি যুবকদের মধ্যেই যৌনরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। কাউন্সেলিং করে দেখা যাচ্ছে, তারা শুধুমাত্র ফূর্তি করতে হোটেলে যাচ্ছে। আর সেখানে মক্ষিরানিদের পাল্লায় পড়ে দেদার টাকা ওড়াচ্ছে। রঙিন দুনিয়ায় গা ভাসাতে গিয়ে অজান্তেই তারা যৌনরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ধারাবাহিক চিকিৎসার মাধমে সেরেও উঠছে অনেকে। কেতুগ্রাম, দাঁইহাট, পানুহাট সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।


২০২৩ সালে কাটোয়ায় ২২জন এইচআইভি আক্রান্তকে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১৪জন পুরুষ ও ৮জন মহিলা। ২০২৪ সালে কাটোয়ায় সেই সংখ্যা ১১জন। তার মধ্যে ১০জন পুরুষ ও মাত্র ১জন মহিলা। মঙ্গলকোটে একই বছরে মাত্র একজন এইচআইভি আক্রান্ত যুবককে পাওয়া গিয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন