নয়াদিল্লি: শুক্রবার রাত আড়াইটে নাগাদ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল মুস্তাফাবাদের শক্তি বিহার অ্যাপার্টমেন্ট। রাত পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১ জনকে জীবিত অবস্থাতেও উদ্ধার করে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল, দিল্লি দমকল এবং পুলিসের যৌথবাহিনী। জখমদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের চিকিৎসা চলছে। বাকি ছ’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের ভিতর আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে মনে করছে উদ্ধারকারী দল। পরিস্থিতি এমনই যে অভিযান চালাতে সমস্যা হচ্ছে বলে দমকলের তরফে জানানো হয়েছে। ওই বহুতল বেআইনিভাবে তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ওই বহুতল বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। শুক্রবার দিল্লিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ কয়েক ঘণ্টার প্রচণ্ড ঝড়বৃষ্টিতেই আলগা হয়ে ওই বহুতল ভেঙে পড়ে। শীর্ষস্থানীয় পুলিস অফিসার সন্দীপ লাম্বা বলেন, তদন্ত চলছে। প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।
তবে যেভাবে ওই বহুতল ভেঙেছে
তাতে আটকে পড়া কারও বেঁচে থাকা সম্ভব নয় বলে মনে করেছেন সরকারি আধিকারিকরা।
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই বহুতল ভেঙে পড়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে
দেখা যাচ্ছে, হঠাৎ করেই চারদিক ধোঁয়ায় ঢেকে গেল। তারপর আর কিছুই দেখা
যায়নি। দমকল আধিকারিক রাজেন্দ্র অটওয়াল বলেন, রাত ২টো ৫০ নাগাদ আমরা বহুতল
ভেঙে পড়ার খবর পাই। যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছাই, ততক্ষণে গোটা বাড়িই ভেঙে
গুঁড়িয়ে গিয়েছে।
এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা।
তিনি বলেন, ‘মুস্তাফাবাদের ঘটনায় অত্যন্ত শোকাহত। এই ঘটনার পিছনে যাঁরা
যাঁরা জড়িত রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ দিল্লির
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন। এই
অবস্থায় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য তিনি আপের সব কর্মীদের কাছে
আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘ঝড়ের সময়েই ওই বাড়িটি
দুলছিল। বিষয়টি আমরা জানিয়েছিলাম। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে রাতে এই ঘটনা ঘটত
না।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন