কোচবিহার: গরম
পড়তে শুরু করেছে। আর সেই সঙ্গে লাফিয়ে বাড়বে মশামাছির উপদ্রব। শীত না পড়া
পর্যন্ত এই প্রকোপ থেকেই যায় কোচবিহার জেলায়। এই পরিস্থিতিতে জেলায়
পতঙ্গবাহিত রোগের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে রীতিমতো
চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। চলতি বছর আগে থেকেই জেলাজুড়ে পতঙ্গবাহিত রোগ রুখতে
পরীক্ষা চলছিল।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার
জেলায় কিট টেস্টের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষের
ম্যালেরিয়ার রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। একই ভাবে জেলায় ৪৫০০ মানুষের ডেঙ্গু ও
হাজারের বেশি স্ক্রাব টাইফাসের পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ
রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও জেলায় এসব পতঙ্গবাহিত রোগে আক্রান্তের
সংখ্যা এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট কম। তবে গরম পড়তেই জেলাজুড়ে এধরনের পরীক্ষার
উপর আরও জোড় দিচ্ছে স্বাস্থ্যদপ্তর। যাতে কোনওভাবেই পতঙ্গবাহিত রোগ ছড়িয়ে
না পড়ে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রীকুমার আড়ি বলেন, জেলায়
পতঙ্গবাহিত রোগ রুখতে আমরা আগে থেকেই প্রচুর পরিমাণ রক্তের নমুনা পরীক্ষার
কাজ চালিয়ে আসছি। কিট টেস্টের মাধ্যমে এবার বিপুল সংখ্যক পরীক্ষা চালানো
হয়েছে। সেই তুলনায় ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও স্ক্রাব টাইফাসের সংখ্যা খুবই কম।
তবে এখানে আত্মতুষ্টির কোনও সুযোগ নেই। গরম পড়েছে। আমরা জেলাজুড়ে রক্ত
পরীক্ষার উপর জোর দেব।
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে,
ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে প্রায় আড়াই লক্ষ রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার পর এখনও
পর্যন্ত মাত্র ১২ জনের রক্তে ম্যালেরিয়া ধরা পড়েছে। মাত্র ১৯ জনের ডেঙ্গু ও
১৬ জনের স্ক্রাব টাইফাস ধরা পড়েছে। সংখ্যা কম হলেও স্বাস্থ্যদপ্তর চায় এই
বিষয়ে পূর্ণ সজাগ থাকতে। তাই জেলার সর্বত্র সচেতনতা প্রচার চালানোর
পাশাপাশি রক্তের নমুনা পরীক্ষার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন