কলকাতা: কোনওরকম ভনিতা না করে প্রথমেই বলে ফেলা ভালো যে, শনিবার আইএসএল ফাইনালে মোহন বাগানই ফেভারিট। সেমি-ফাইনালে এফসি গোয়াকে হারিয়ে বেঙ্গালুরু এফসি নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছে। আলবার্তো নোগুয়েরো, পেরেরা ডিয়াজ, সুনীল ছেত্রীর মতো তারকারা জেরার্ড জারাগোজা-ব্রিগেডের সম্পদ। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ম্যাচটি হচ্ছে যুবভারতী, থুড়ি মোহন ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে।
ষাট হাজারের বেশি সমর্থকই পালতোলা নৌকার দ্বাদশ ব্যক্তি। গ্যালারি থেকে ভেসে আসা শব্দব্রহ্ম সামলানো অবশ্যই বিএফসি’র কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। তাছাড়া স্বদেশি রক্ষণ নিয়ে জেমি ম্যাকলারেন-জেসন কামিংসদের রোখা কঠিন। প্রাপ্ত অর্থের নিরিখে ম্যাকলারেন এগিয়ে থাকলেও শনিবার মোহন বাগান আপফ্রন্টে সেরা বাজি হতে চলেছেন কামিংসই। শেফিল্ডের ছুরির মতো বাঁ পা এবং অনবদ্য ফুটবল সেন্স এই অজি ফুটবলারের মূলধন। দু’প্রান্ত থেকে মনবীর সিং ও লিস্টন কোলাসোর যোগ্য সঙ্গত দিতে পারলে শনিবারের রাতে সবুজ-মেরুন হয়ে উঠবে যুবভারতী। তবে বেঙ্গালুরুর আপফ্রন্টও যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই আলবার্তো-শুভাশিসদের বাড়তি সতর্ক থাকতেই হবে। মাঝমাঠের লড়াইয়ে আপুইয়াদের চ্যালেঞ্জ ছুড়তে তৈরি সুরেশরা। আর দুই দলের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ ও গুরপ্রীত সিং সান্ধু নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।
আইএসএল টেবিলে সবার উপরে শেষ করে লিগ-শিল্ড জিতেছে মোহন বাগান। তখন অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন যে, আত্মতুষ্টি দানা বাঁধতে পারে আশিস রাই-অনিরুদ্ধ থাপাদের মধ্যে। কিন্তু দুরন্ত টিম গেমে ভর করে খালিদ জামিলের জামশেদপুরকে হারিয়ে সেই সংশয় মুছে ফেলেছে হোসে মোলিনার দল। শনিবার জিতে ‘ডাবল’ আনন্দ সেলিব্রেট করাই সবুজ-মেরুন জনতার লক্ষ্য। এর আগে একমাত্র মুম্বই সিটি এফসি এই সাফল্য পেয়েছে (২০২০-২১)।
চলতি মরশুমের প্রারম্ভিক পর্বে কান্তিরাভায় এই বেঙ্গালুরুর কাছেই তিন গোলে হারে মোহন বাগান। কিন্তু সেদিন ছিলেন না জেমি ম্যাকলারেন। মাঝমাঠে খেলাতে হয়েছিল অনভিজ্ঞ অভিষেক সূর্যবংশীকে। সেকেন্ড লেগে অবশ্য লিস্টনের অসাধারণ ভলি স্তব্ধ করে দেয় বিএফসি’কে। এখন মোলিনার দল আরও বেশি পরিণত। ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই তাদের মূলধন। অন্যদিকে, বেঙ্গালুরু মরশুমের শুরু থেকেই আনপ্রেডিক্টেবল। গ্রুপ লিগে ২৪টি ম্যাচের মধ্যে তারা জিতেছে ১১টি’তে। হারের সংখ্যা ৮। আর ড্র ৫টি। এই নিরিখে মোহন বাগান অনেক এগিয়ে। ১৭টি জয়, ৫টি ড্র এবং ২টি হারই তার প্রমাণ। পরিসংখ্যানের নিরিখে মাঠে খেলা হয় না, এটা ঠিকই। কিন্তু সংখ্যাতত্ত্বকে কি অস্বীকার করা যায়? তাছাড়া সবুজ-মেরুনে ম্যাচ উইনারের সংখ্যা যে অনেক বেশি, তা নিশ্চয়ই সবাই মানবেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন