নয়াদিল্লি: বিরোধী দল শাসিত রাজ্যগুলির মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিও এবার কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে ট্যাক্সের ভাগ বেশি করে চাইছে। ষোড়শ অর্থ কমিশনের কাছে এই মর্মেই দরবার করেছে ওড়িশা, গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশ। আগামী মাসে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলবে অর্থ কমিশন। যাবে ছত্তিশগড়েও। মনে করা হচ্ছে, ওই দুই রাজ্যও একই পথে হাঁটবে। সুতরাং ষোড়শ অর্থ কমিশনের রিপোর্ট ও সুপারিশ আসার আগেই রাজ্যগুলির দাবিদাওয়ার গতি প্রকৃতি জানতে পেরে কেন্দ্রীয় সরকার চাপে পড়েছে। কারণ, অর্থ কমিশনের কাছে সিংহভাগ রাজ্যের প্রধান দাবি হল, কেন্দ্র এবং রাজ্য মিলিতভাবে যে মোট ট্যাক্স সংগ্রহ করে, তার যে অংশ রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়, তা বাড়াতে হবে। চতুর্দশ অর্থ কমিশন পর্যন্ত রাজ্যগুলিকে ট্যাক্সের অংশ দেওয়া হতো মোট কর সংগ্রহের ৩২ শতাংশ। পঞ্চদশ অর্থ কমিশন সেটা বাড়িয়ে করেছিল ৪২ শতাংশ। ২০১৯ সালে যখন জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য ভেঙে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি হল, সেই সময় থেকে ১ শতাংশ কমে গেল রাজ্যগুলির প্রাপ্তি। কারণ জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখকেও দিতে হবে ট্যাক্সের অংশ, তাই তখন থেকে ৪১ শতাংশ করের ভাগ দেওয়া হতো।
বিগত পাঁচ বছরে আর্থিক সঙ্কটে
রাজ্যগুলির নাভিশ্বাস উঠেছে। করোনা কালের পর নতুন সঙ্কট হল, কেন্দ্রীয়
সরকারের থেকে নানাবিধ আর্থিক সহায়তা ও অনুদান কমে যাওয়া। বিশেষ করে
কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাবদ টাকা পেতে হলে প্রচুর শর্তপূরণ করতে হচ্ছে। এই
কারণেই ষোড়শ অর্থ কমিশন গঠিত হওয়ার পর থেকেই রাজ্যগুলি সরব হয়েছে যে, করের
ভাগ ৫০ শতাংশ করতে হবে। এই দাবি এতটা জোরালো হয়েছে যে, দক্ষিণ ভারতের
ইন্ডিয়া জোটের চার রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী একজোট হয়ে একটি অক্ষ
স্থাপন করেছেন। তাঁরা একজোট হয়েই অর্থ কমিশনকে বলেছেন, ৫০ শতাংশ দিতেই হবে
করের ভাগ। সেরকমই যেন অর্থ কমিশন সুপারিশ করে।
প্রসঙ্গত, মোট সংগ্রহ
করা ট্যাক্সের থেকে কতটা রাজ্যগুলিকে দিতে হবে সেই সুপারিশ ও ফর্মুলা স্থির
করে দেয় অর্থ কমিশন। ষোড়শ অর্থ কমিশন ২০২৪ সাল থেকে বিভিন্ন রাজ্য সফর
করছে। মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এতদিন শুধু
বিরোধী শাসিত রাজ্যই এই দাবি জানিয়েছে। গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত যত
রাজ্যের সঙ্গে কথা বলেছে অর্থ কমিশন, সেই তালিকা থেকে জানা যাচ্ছে, বিজেপি
শাসিত তিন গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যও ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ করের ভাগ চেয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ চেয়েছে ৪৮ শতাংশ ভাগ। ওড়িশা চেয়েছে ৫০ শতাংশ। গুজরাতও চেয়েছে ৪১
শতাংশ থেকে বাড়িয়ে করের ভাগ এমনভাবে করা উচিত যাতে যেসব রাজ্য বেশি হারে
কর ও শিল্পলগ্নি দিচ্ছে তারা সেই অনুযায়ী পুরস্কার পায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন