পতিরাম: বালুরঘাট শহরে রান্নার (এলপিজি) গ্যাসের সিলিন্ডারে জল থাকার ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে চক্ষু চড়ক গাছ ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের। এবার ওজনেও কারচুপি ধরল ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তর। প্রত্যেকটি সিলিন্ডারেই কম ওজন রয়েছে। কোনওটাতে ২০০ গ্রাম কম আবার কোনও সিলিন্ডারে ৪০০ গ্রাম কম। প্লান্ট থেকে আসা সিলিন্ডারেও যেমন ওজন কম পাওয়া গিয়েছে, তেমনি গোডাউনেও কম ওজন পাওয়া গিয়েছে। এনিয়ে ওই গ্যাসের সংস্থাকে সতর্ক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দপ্তর। এদিকে গ্যাসের দাম বেড়েছে, তার উপর সিলিন্ডার থেকে জল বের হওয়ার পাশাপাশি ওজনেও কারচুপি ধরা পড়ছে। এনিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে।
এবিষয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের উপ সহ অধিকর্তা মনোজিৎ রাহা বলেন, আমরা গ্যাসের গোডাউনে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম সিলিন্ডারে গ্যাসের ওজন ঠিক নেই। অনেক সিলিন্ডারেই আলাদা আলাদা ওজন মিলেছে। বেশি কোথাও নেই। কোনওটায় ১৫০ গ্রাম, ২০০ গ্রাম, আবার কোনওটায় ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত কম পেয়েছি। কেন এমনটা হচ্ছে, তা জানতে চেয়েছি। সংশ্লিষ্ট মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি এনিয়ে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
যদিও ওই গ্যাস সংস্থার ডিস্ট্রিবিউটর নীলাঙ্কন বর্মন বলেন, কোম্পানি থেকে আসা সিলিন্ডারগুলিতেই কম পাওয়া গিয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কোম্পানিকে জানিয়েছি। পাশাপাশি জেলাশাসকের সঙ্গে একাধিক বিষয় নিয়ে বৈঠক করেছি।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হতেই শহরের মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এবিষয়ে এক গৃহবধূ সুস্মিতা চক্রবর্তী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই গ্যাসে জল পাওয়ার খবর পাচ্ছি। তাই গ্যাস নেওয়ার সময় একটু দেখেশুনেই নিচ্ছি। এবার গ্যাসের ওজনে কম পাওয়া গিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। কিছুদিন আগে আমার একটি গ্যাস খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখন কারণটা বুঝতে পারছি। এমনিতেই গ্যাসের দাম বেশি। তার উপর আমাদের এভাবে ঠকালে আমরা কোথায় যাব?

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন