নয়াদিল্লি: চলন্ত অবস্থায় গলে গেল ট্রেনের চাকা! দেরাদুন-নিউদিল্লি জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের এমন ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়েছে সব মহলে। ওই এক্সপ্রেসের লোকো পাইলট তৎপর ছিলেন বলে এই যাত্রায় রক্ষা পেয়েছেন কয়েকশো রেল যাত্রী। কারণ গলে যাওয়া চাকা নিয়ে যদি ট্রেন দ্রুতগতিতে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করত, তাহলে বড়সড় দুর্ঘটনা হতে পারত। বহু প্রাণহানির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদিও বিতর্ক এড়াতে চাকা গলে যাওয়ার মতো বেনজির ঘটনার কথা স্বীকার করেনি রেলমন্ত্রক।
ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার নর্দার্ন রেলের পক্ষ থেকে ‘বর্তমান’কে জানানো হয়েছে, চাকা গলে যাওয়ার মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা হয়েছিল মাত্র। ইঞ্জিনের চাকায় কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছিল। তাপরি জংশনের অন ডিউটি স্টেশন মাস্টার বিষয়টি সামলে দেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে এর স্থায়ী সমাধানও হয়েছে। অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলেও যাত্রী সুরক্ষা বা নিরাপত্তাজনিত কোনও ঘটনা ঘটেনি বলেও সাফ জানিয়েছে রেল। মন্ত্রকের এহেন মন্তব্যে অবশ্য বিস্মিত তথ্যাভিজ্ঞ মহল।
কী ঘটেছিল এদিন? জানা যাচ্ছে, দেরাদুন-নিউদিল্লি জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের লোকো পাইলট উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর জেলায় তাপরি জংশন স্টেশনের কাছে আচমকাই টের পান যে, ট্রেনের চাকায় কোনও সমস্যা হচ্ছে। কিছু অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যাচ্ছে। এর পরই তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেল কর্মীদের জানান। রেলের প্রযুক্তিবিদরা আসেন। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে কার্যত চোখ কপালে ওঠে বিশেষজ্ঞদের। রেল যাত্রীদের মধ্যেও চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। এহেন ঘটনায় আবারও রেলমন্ত্রকের দায়সারা মনোভাবের দিকেই অভিযোগের আঙুল উঠছে।
সংসদে অবশ্য রেলমন্ত্রক বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, মোদি জমানার বিগত ১০ বছরে দেশে ট্রেন দুর্ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্ব্রাস পেয়েছে। ২০০৪-১৪ সালের মধ্যে দেশে বছরে গড়ে ১৭১টি করে ট্রেন দুর্ঘটনা হতো। কিন্তু ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে দেশে মাত্র ৩১টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাজ্যসভায় লিখিতভাবে এই তথ্য পেশ করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। অন্যদিকে, রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণে বাজেট বরাদ্দের পরিমাণও যে কমানো হয়েছে, তাও রেলমন্ত্রকের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন