তমলুক: নববর্ষে দুই নাবালিকার নতুন সংসার গড়ার স্বপ্ন ভেস্তে দিল পুলিস। প্রেমিকদের হাত ধরে ঘর ছেড়েছিল দু’জনে। পয়লা বৈশাখ ছিল সম্পর্কের ‘শুভ মহরত’। সেই মতো সোমবার রাতে বিয়ের প্রস্তুতিও চলে দুই প্রেমিকের বাড়িতে। তার আগেই হাজির পুলিস। উদ্ধার করা হয় দুই নাবালিকাকে। কিন্তু কোনও প্রেমিককে আটক কিংবা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এক প্রেমিককে ধরতে গিয়ে রীতিমতো নাস্তানুবুদ হতে হয় পুলিসকে। গ্রামবাসীরা কার্যত তাকে ছিনিয়ে নেন। অন্য প্রেমিক পুলিস যাওয়ার খবর পেয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসার প্রস্তুতি ছেড়ে পিছন দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
দুই নাবালিকার মধ্যে একজনের বাড়ি ভূপতিনগরে। অন্যজনের ময়নায়।
দু’জনকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিতে পেরে স্বস্তিতে পূর্ব মেদিনীপুর
জেলা পুলিস। ভূপতিনগর থানার ওসি শেখ মহম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘ইক্ষুপত্রিকা
গ্রাম ওই নাবালিকার বাড়ি। সোমবারই সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল।
নন্দীগ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’ এদিকে,
ময়না থানার ওসি সোমনাথ শীট বলেন, ‘চংরা গ্রামের এক নাবালিকাকে বাড়ি ছেড়ে
প্রেমিকের কাছে চলে গিয়েছিল। তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।’
জানা গিয়েছে,
ইক্ষুপত্রিকা গ্রামের ওই নাবালিকার বয়স মাত্র ১৬ বছর। গতকাল সে ঘর ছেড়ে
পৌঁছে যায় নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের তারাচাঁদবাড় গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে। রাতেই
তার বাবা-মা ভূপতিনগর থানায় হাজির হন। অনেক রাতে ভূপতিনগর থানার তদন্তকারী
অফিসার আমিনুল ইসলাম ও তাঁর টিম তারাচাঁদবাড় গ্রামে হানা দেয়। অনেক ঝক্কি
সামলে উদ্ধার করা হয় নাবালিকাকে। প্রেমিক সহদেব বাগকে বাগে পেয়েও ছেড়ে দিতে
একরকম বাধ্য হয় পুলিস। গ্রামবাসীরা পুলিসের হাত থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়।
আপাতত ওই নাবালিকাকে হোমে পাঠানো হয়েছে। পরে ঘরে ফেরানো হবে বলে পরিবার
সূত্রে খবর।
সহদেব দীঘা মোহনা ফিস মার্কেটে কাজ করে। সেখানেই ওই
নাবালিকার বাবাও কাজ করেন। বাবার কাছে দু’-একবার যাতায়াতের সুবাদে সহদেবের
সঙ্গে তার পরিচয়। তারপর থেকেই দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পরিবারের লোকজন এখনই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু, নাবালিকা কিছুতেই
পরিবারের আপত্তি মানতে চাইছিল না। সোমবার সে প্রেমিকের হাত ধরে তার বাড়িতে
পৌঁছে যায়। পয়লা বৈশাখ থেকেই নতুন জীবন শুরু করতে এই দিনটিকে বেছে নিয়েছিল
দু’জনে। মেয়ের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি বাবা-মা। তাঁরা রাতেই থানায় এসে
নাবালিকাকে উদ্ধারের আর্জি জানিয়েছিলেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন