ওয়াশিংটন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুকাঠির ছোঁয়া। হাজার হাজার বছর পর ঘুম ভাঙল তুখোড় শিকারি প্রাণীর! আর সেগুলি অনেকটাই বিলুপ্ত প্রাণী ডায়ার উলফের মতো। বিশেষ প্রজাতির এই নেকড়ে ১০ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। আমেরিকার ডালাসের জৈবপ্রযুক্তি সংস্থা কোলোসাল বায়োসায়েন্সের গবেষকরা সোমবার এধরনের প্রাণীর তিনটি শাবকের ‘পুনর্জন্মে’র কথা জানিয়েছেন। এই ঘটনা সারা বিশ্বেই তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। আপাতত একটা অজ্ঞাত জায়গায় ঘোরাফেরা করছে ওই প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর সঙ্গে মিল থাকা তিন-তিনটি শাবক!
তখন কয়েক যুগ ধরে ছড়িয়ে থাকা বরফের সাদা চাদর ক্রমেই ছোট হচ্ছে। ঘাস শুধু ঘাস, আর ছোটছোট গাছপালায় সবুজের বিস্তার। মানুষ শিকারী-খাদ্য সংগ্রাহক। ছোট ছোট দল বেঁধে তারা থাকত। এই বরফ-যুগের শেষপর্ব পর্যন্ত উত্তর আমেরিকার তৃণভূমিতে দাপট দেখাতো ডায়ার উলফ। কিন্তু কালক্রমে বিলুপ্ত হয়ে যায় ওই প্রাণীগুলি। কলোসাল বায়োসায়েন্স বিভিন্ন বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার কাজ চালাচ্ছে। এই সংস্থার বিজ্ঞানীরাই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তিনটি নেকড়ে শাবকের জন্মের কথা জানিয়েছেন। যাদের সঙ্গে ডায়ার উলফের সাদৃশ্য রয়েছে। আধুনিক জিন-এডিটিং এবং ক্লোনিং প্রযুক্তির সাহায্যে বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিদেরও যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তা এই যুগান্তকারী সাফল্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হল বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে কোলোসাল ম্যামথ, ডোডো পাখি ও তাসমেনিয়ান টাইগারের পুনর্জন্মের কাজ শুরু করলেও ডায়ার উলফ প্রকল্পেই তাদের প্রথম সাফল্য এল।
শাবকগুলির বয়স এখন তিন থেকে ছ’মাসের মধ্যে। কিন্তু এরমধ্যেই শাবকগুলির ওজন প্রায় ৮০ পাউন্ড। পূর্ণ বয়সে তাদের ওজন ১৪০ পাউন্ডে পৌঁছবে বলে। শাবকগুলির লোম ঘন, লম্বা। চোয়াল পেশীবহুল। ডায়ার উলফের নিকটতম আত্মীয় হল বর্তমানের ধূসর নেকড়ে (গ্রে উলফ)। তবে এদের তুলনায় ওই প্রাগৈতিহাসিক প্রাণী ছিল অনেক বড়সড়। তবে কি আবার উত্তর আমেরিকার তৃণভূমিতে দাপট দেখাবে ডায়ার উলফ? অন্যান্য বিজ্ঞানীরা অবশ্য এমন কোনও সম্ভাবনা দেখছেন না। ইউনিভার্সিটি অব বাফেলোর বায়োলজিস্ট ভিনসেন্ট লিঞ্চ বলেছেন, এখন কাউকে অন্য কারও মতো তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু কোনও বিলুপ্ত প্রজাতিকে সম্পূর্ণভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন