ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লি: সম্ভাব্য প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় ভয়ে কাঁটা পাকিস্তান! হাটু কাঁপছে ইসলামাবাদের। আর সেই আবহেই বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি বৈঠক করেছে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি (এনএসসি)। সূত্রের খবর, ভারতের প্রত্যাঘাতের আতঙ্কে তিন বাহিনীকেই অ্যালার্ট থাকতে বলেছে পাকিস্তান সরকার। পাশাপাশি ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ করা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করা হয়েছে। এনএসসি বৈঠকের পর জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত যদি সিন্ধুর জলপ্রবাহ ঘোরানোর চেষ্টা করে তাহলে তা যুদ্ধ ঘোষণা (অ্যাক্ট অব ওয়ার) বলে ধরে নেওয়া হবে। চাপের মুখে ইসলামাবাদ বলল, ভারত একতরফা পদক্ষেপ করলে সিমলা চুক্তি সহ দ্বিপাক্ষিক সব ধরনের সমঝোতা থেকে সরে আসবে পাকিস্তান। তারই মধ্যে আরব সাগরে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের সলতে পাকতে শুরু করেছে। পহেলগাঁও হামলার জেরে উত্তেজনার আবহেই শুক্রবারের মধ্যে করাচি উপকূলে ৪৮০ কিলোমিটার পাল্লার নয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামাবাদ। সেজন্য আরব সাগরে তারা নো ফ্লাই জোন ঘোষণা করেছে। হুঁশিয়ারির সুরে বলেছে, ওই এলাকার ত্রিসীমানায় যেন কোনও জাহাজ না ঢোকে। পাকিস্তানের এই গতিবিধির উপর সতর্ক নজর রাখছে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার আরব সাগরেই মাঝারি পাল্লার ‘সারফেস টু এয়ার’ মিসাইল টেস্ট করেছে ভারতীয় নৌসেনা। ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি কতটা, তার জানান দিতেই এই পরীক্ষা। স্বাভাবিকভাবেই এই পদক্ষেপকে ইসলামাবাদের প্রতি সতর্কতার ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। নৌসেনার নবতম ডেস্ট্রয়ার আইএনএস সুরাত (ডি৬৯) থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। এই মিসাইলটি সাফল্যের সঙ্গে উড়ন্ত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। মূলত রাডারের নজরদারি এড়িয়ে খুব নিচু দিয়ে শত্রু শিবির হামলা চালাতে নিমেষে তা শেষ করে দেবে অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্র। আইএনএস সুরাত থেকে এই মিসাইল টেস্টের পাশাপাশি আইএনএস বিক্রান্তকেও তৈরি রাখা হয়েছে বলে খবর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন