নয়াদিল্লি: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনী বৈতরণী পার কি গণতন্ত্রের জন্য আদৌ ভালো বিজ্ঞাপন? প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট। দৌড়ে যদি শেষ পর্যন্ত মাত্র একজন প্রার্থীও থাকেন, তাহলে এমন নিয়ম কি বানানো যায় না যে তাঁকেও জয়ী ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট হারে কিছু ভোট পেতে হবে? কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে এব্যাপারে মতামত জানতে চাইল শীর্ষ আদালত।
‘বিধি সেন্টার ফর
লিগ্যাল পলিসি’ নামে একটি সংগঠনের করা আবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবার শুনানি হয়
বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং এন কে সিংকে নিয়ে গড়া বেঞ্চে। ১৯৫১ সালের
জনপ্রতিনিধি আইনের ৫৩(২) ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনী লড়াইয়ে মাত্র একজন
প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণ ছাড়াই তাঁকে জয়ী ঘোষণা করা হবে। এই ধারাটিকেই
অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবি জানিয়েছে ওই সংগঠনটি। আবেদনটির পক্ষে সওয়াল করতে
গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী অরবিন্দ দাতার বলেন, একটি কাল্পনিক পরিস্থিতির কথা ধরা
যাক। একটি কেন্দ্রে তিন-চারজন মনোনয়নপত্র পেশ করলেন। শেষদিনে একজন
প্রার্থী ছাড়া বাকিরা সবাই ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন। ধরা যাক ওই
কেন্দ্রে ১ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ হাজার ভোটার ওই একমাত্র
প্রার্থীকে ভোট দিতে চান। কিন্তু ২৫ হাজার ভোটার ভোটদান করতে চান
নোটায়। তাঁদের কি ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত? সম্ভাব্য বিপদের
বিষয় হল, বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্যও তো
করতে পারেন কোনও প্রার্থী।
এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই কেন্দ্র ও
নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন করছে সুপ্রিম কোর্ট। জানতে চাওয়া হয়েছে,
ভোটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র একজন প্রার্থী থাকলেও তাঁকে জয়ী ঘোষণার
জন্য অন্তত ১০, ১৫ বা ২০ শতাংশ ভোট পেতেই হবে, এমন নিয়ম কি করা যায়? তাহলে
সেটি কি প্রগতিশীল পদক্ষেপ হবে না? সংবিধানের প্রতি কুর্নিশ জানিয়ে শীর্ষ
আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, ‘আমাদের সংবিধান সংখ্যাগরিষ্ঠতার গণতন্ত্রের কথা
বলে। তাই আমরা যখন বলি, সংখ্যাগরিষ্ঠতাই হল গণতন্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর তাহলে
সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ঝাঁপাব না কেন? আমাদের প্রস্তাব হল, লড়াইয়ে যদি
শেষ পর্যন্ত মাত্র একজন প্রার্থীও থাকেন, তাহলে সেই প্রার্থীকে পছন্দ করেন
এমন কিছু ভোটারও থাকা উচিত।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন