কলকাতা: রবিবার ছুটির দিনেও জরুরি ভিত্তিতে খোলা রাখা হচ্ছে নবান্ন। রামনবমীতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতেই নবান্ন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত। খোলা থাকছে মূলতঃ ডিজি কন্ট্রোল রুম। নবান্ন থেকেই চলবে নজরদারি। নবান্নে থাকবেন খোদ পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। থাকবেন এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম।
অন্যদিকে, হাওড়ায় রামনবমীর মিছিলে সায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন মিলেছে। হাইকোর্ট বলছে, ধাতুর তৈরি কোনও হাতিয়ার নিয়ে মিছিল করা যাবে না। কিন্তু, পিভিসি দিয়ে তৈরি যে কোনও ধর্মীয় প্রতীক নিয়ে মিছিল করা যাবে। ক'টা থেকে মিছিল হবে, সেখানে কতজন থাকতে পারবেন তাও বলে দিয়েছে আদালত। আদালত বলছে, দুই সংগঠনের ৫০০ জন করে মোট ১০০০ লোক নিয়ে মিছিল করা যাবে।সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১ টা পর্যন্ত মিছিল করবে অঞ্জনী পুত্র সেনা। বিকাল ৩ টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত মিছিল করবে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তবে যাঁরা মিছিলে অংশ নেবেন তাঁদের সকলের কাছে পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
তবে আদালত সাফ বলছে, কোনও সংগঠনই ৫০০ জনের বেশি লোক আনতে পারবে না। অঞ্জনী পুত্রদের মিছিল হবে সকালে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মিছিল বিকেলে। এদিন মিছিল নিয়ে সওয়াল জবারের মধ্যে নিজের পর্যবেক্ষণও জানান বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। অনুমতি দিলেও তাঁর স্পষ্ট কথা, 'আমি থামালে সবাইকে থামাব। শুধু রাজনৈতিক দল নয়। আমি সিবিআই দিলে আগে পুলিশের তদন্ত দেখি। তাই সবাইকে থামাব।'
এদিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কথা বলতে দেখা যায় বিচারপতিকে। তিনি বলেন, ‘এর আগে বাঁকুড়ায় অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা অন্য ইস্যু ছিল। কিন্তু, কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুমতি দেব না। পুলিশের অবশ্যই ক্ষমতা আছে। কিন্তু সেই ক্ষমতা থাকা আর প্রয়োগের উপর আকাশ পাতাল পার্থক্য।' তবে ২০২২ সালের পর অশান্তি অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন তিনি। বলেন, '২০২২ এর পর আরও ভায়োলেশন কমেছে। আশা করা হচ্ছে হিংসা আরও কমবে।'
রাম নবমীর মিছিলের অনুমতি দেওয়া প্রসঙ্গে টানেন দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গও। কেন অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তার সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘দুর্গাপুজোয় কোথাও গন্ডগোল হলে কি দুর্গাপুজোই বন্ধ করে দেব?' একইসঙ্গে রাজ্যকেও মনে করান দায়িত্ব। খানিক পরামর্শ দিয়েই বলেন, 'কোনও এলাকা নিয়ে পুলিশ যদি আশঙ্কা প্রকাশ করে তাহলে সেটা রাজ্যের পক্ষে ভাল দেখায় না।' এবার নবান্নের তরফে সরকারি এল পদক্ষেপ৷ রামনবমীতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতেই নবান্ন খোলা
রাখার সিদ্ধান্ত। খোলা থাকছে মূলতঃ ডিজি কন্ট্রোল রুম। নবান্ন থেকেই চলবে
নজরদারি। নবান্নে থাকবেন খোদ পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। থাকবেন এডিজি
আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন