ভেজাল ওষুধ চিনবেন কীভাবে? জরুরি খবর, সেভ করে রাখুন - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৫

ভেজাল ওষুধ চিনবেন কীভাবে? জরুরি খবর, সেভ করে রাখুন

 ভেজাল ওষুধ চিনবেন কীভাবে?

পরামর্শে অবসরপ্রাপ্ত সহকারী ড্রাগ কন্ট্রোলার এবং ড্রাগ কন্ট্রোলের প্রাক্তন নোডাল অফিসার সুকুমারচন্দ্র দাস।

বাজারকৃত নিম্ন মানের ওষুধ অথবা নকল ওষুধ, তথাকথিত জাল ওষুধ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এক আন্তর্জাতিক সমস্যা। অতএব সমস্যাটিকে শুধুই ভারতের সমস্যা বলে ভাবলে চলবে না। 


তবে ভারতে প্রভাব অবশ্যই পড়বে। কারণ রোগী সঠিক চিকিৎসা পেলে, সঠিক সময়ে সুস্থ না হয়ে উঠতে পারলে ও অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বাড়লে তা দেশের অর্থনীতিতেও যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবাদপত্রে রোজই বাজারে জাল ওষুধের উপস্থিতি আসছে শিরোনামে। ফলে সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁরা ভুগছেন প্রবল দ্বন্দ্বে! যে ওষুধগুলি তাঁরা দোকান থেকে কিনলেন, সেগুলি আসল না জাল! এই যে দোকানদার অতিরিক্ত ছাড় দিল, সেগুলি কি নকল অথবা নিম্ন মানের? দোকানদার কী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এইসব ওষুধ বিক্রি করছে? ওষুধের কার্যকারিতা কী ব্রান্ড নির্ভর? 


আসুন প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করা যাক। ভারতে ওষুধ ও প্রসাধনী আইন তৈরি হয়েছিল ১৯৪০ সালে যা প্রাক স্বাধীনতা আমলের আইন। এই আইনের ধারা ১৭, ১৭-এ এবং ১৭বি তে নিম্নমান এবং নকল ওষুধের ব্যাখ্যা করা হয়েছে।


১) ধারা ১৭: ‘মিসব্রান্ডেড ড্রাগ (Misbranded Drugs)’-এর অর্থ হল মিথ্যাকৃত ওষুধ। যে ওষুধ ভুলভাবে লেবেল করা হয় বা প্রতারণামূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।


২) ধারা ১৭-এ: অ্যাডাল্ট্রেটে়ড ড্রাগ: এর অর্থ হল ভেজাল ওষুধ, অন্য কোনও নিম্নমানের বা ক্ষতিকারক পদার্থের দ্বারা তৈরি হয়। তার ফলে গুণগতমান সঠিক থাকে না।


৩) ধারা ১৭-বি: স্পুরিয়াস ড্রাগ বা নকল ওষুধ। ওষুধ যে পদার্থ দ্বারা তৈরি হওয়ার কথা তার অনুপস্থিতি।


— ওষুধটির প্রকৃত নির্মাতা দ্বারা তৈরি নয়। কোনও নকল নির্মাতা দ্বারা প্রস্তুত।


যে নির্মাতার নাম লেবেলে থাকে তার কোনও অস্তিত্ব নেই। 
কিন্তু সাধারণ মানুষ তা বুঝবেন কীভাবে? সাধারণত ওষুধের গুণগতমান বৃদ্ধিতে অথবা নকল ওষুধ রোধে উন্নতমানের টেকনোলজি ব্যবহৃত হয়। অথচ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নকল ওষুধ তৈরিতেও উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। না হলে ‘কিউ আর কোড (QR Code)’ কীভাবে নকল হতে পারে! চিন্তার কথা, এই নকল ওষুধ অত্যন্ত সুচারুভাবে বাজারে উপস্থাপন করা হচ্ছে। দেশের ভেষজ নিয়ন্ত্রণ অধিকারের পক্ষে এই সমস্যার সমাধান করা কতটা সম্ভব তা এখন প্রশ্নের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে! ওষুধ ব্যবসায় যুক্ত সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ, তথা সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি খুবই প্রয়োজন। 


বর্তমানে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিমাসে কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা প্রকাশিত নিম্নমানের ওষুধের তালিকা প্রতিটি দোকানে প্রদর্শন করতে হবে। এই নিম্নমানে ওষুধগুলি আবার নকলও হতে পারে। তবে তা অনুসন্ধান যোগ্য।


অভিজ্ঞতা থেকে এও লক্ষণীয় যে, নকল ওষুধের গুণমান অনেক সময় নিম্নমানের হয় না। এই সমস্ত ওষুধগুলি কোনও নকল প্রস্তুতকারকের দ্বারা উন্নতমানের পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রস্তুত করা হয়। এরপর ওষুধ ব্যবসায় যুক্ত নানা মানুষের সাহায্যে বাজারকৃত করা হয়। 


এই সব সংস্থার তৈরি ওষুধের তালিকায় বহু প্রচলিত বা বহুবিক্রিত ওষুধও থাকে যাতে সাধারণ মানুষের মনে কোনও সন্দেহের উদ্রেক না ঘটে এবং ডিসট্রিবিউশন চ্যানেল (Distribution Channel) তথা বিপণন সিস্টেমের মধ্যে ওষুধগুলিকে সহজে প্রবেশ করানো যায়।


ওষুধ ব্যবসায় যুক্ত সবারই সচেতন অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন। ভেষজ নিয়ন্ত্রণ অধিকার সর্বদাই তাদের পরিদর্শনের সময় তার কাগজপত্র পরীক্ষা করে। বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মশালারও আয়োজন করে। অতীতে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ করা গিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি বর্তমান এই সমস্যায় কিছুটা হলেও সমাধান যোগ্য। 

আপাতত সাধারণ মানুষের কী কী করা উচিত?

  •  ক্যাশমেমো ছাড়া কোনও ওষুধ কেনা ঠিক নয়।
  •  ওষুধ দোকানের লাইসেন্স প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। ক্যাশমেমোর সঙ্গে মিলিয়ে নিন ওষুধের দোকানের লাইসেন্স।
  • পশ্চিমবঙ্গ ভেষজ অধিকারের ই-ভেষজ পোর্টালের (E-vesoj Portal)-এর সাহায্যে, লাইসেন্স নম্বর, মালিক এবং নিযুক্ত ফার্মাসিস্ট-এর নাম যাচাই করুন।
  • লেবেলের ওপর প্রস্তুতকারক সংস্থার কিউ আর কোড/ বার কোড যাচাই করুন।
  • প্রতিদিনের ব্যবহৃত পুরনো প্যাকের সঙ্গে নতুন প্যাকের নমুনা মিলিয়ে নিন।
  • কোন সন্দেহ হলে ভেষজ নিয়ন্ত্রণ আধিকারিকের নজরে আনুন।

নিম্নমানের অথবা জাল ওষুধের ঝুঁকি

  •  চিকিৎসায় ফল না মেলা। অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়া।
  • জীবাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স কমে যাওয়া যা ভবিষ্যতে চিকিৎসায় সমস্যা বৃদ্ধি হওয়া।
  • নকল ওষুধে ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতি শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতির কারণও হতে পারে।

কোথায় জানাবেন অভিযোগ?

 রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর একটি ফোন নম্বর এবং ই-মেল আইডি জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে জানিয়েছে।
মোবাইল: ৭৯০৮০৭৭৬১৫
ই-মেল: prosecutionandcomplaintcell@gmail.com
 কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল (সিডিএসসিও) তাদের ওয়েবসাইটে ওষুধের গুণমান সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য দু’টি ইমেল আইডি প্রকাশ করেছে। 
সেগুলি হল— dci@mic.in, enforcecell.div@cdsco.nic.in

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন