রামপুরহাট: বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে মহিলা পর্যটকের স্নান করার দৃশ্য মোবাইলে তোলার অভিযোগে হোটেলের ম্যানেজার সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ঘটনার জেরে তারাপীঠে শোরগোল পড়েছে। মঙ্গলবার ধৃত ম্যানেজার অভিজিৎ রায় ও রিসেপসনিস্ট শুভম বন্দ্যোপাধ্যায়কে রামপুরহাট আদালতে তোলা হয়। অভিযোগকারীর আইনজীবী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এই চক্রের সঙ্গে বিদেশি যোগ থাকতে পারে। বিচারক অভিযুক্তদের জামিন খারিজ করে পাঁচদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান সরকারি আইনজীবী সৈকত হাটি। তবে মূল অভিযুক্ত আর এক হোটেলকর্মী অধরা।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার কলকাতার দু’টি
পরিবার তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে আসে। তাঁরা দ্বারকা ব্রিজের পূর্বপাড়ের
একটি হোটেল ভাড়া নেন। পরেরদিন রাত ৯টা নাগাদ এক মহিলা পর্যটক বাথরুমে
স্নান করছিলেন। হঠাৎই তাঁর নজরে পড়ে, বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে কেউ তাঁকে
দেখছে। মোবাইল ফোনে তাঁর ছবিও তুলছে। তিনি চিৎকার করে ওঠেন। বাথরুম থেকে
বেরিয়ে তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান। এরপরই তিনি রামপুরহাট থানায় এসে
অভিযোগ দায়ের করেন। প্রমাণ নষ্ট করতে রাতারাতি সেই ভেন্টিলেটর সিমেন্ট
দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে,
পাশাপাশি দু’টি রুম। দুই বাথরুমের উপর একটি ভেন্টিলেটর রয়েছে। ওই মহিলা
পর্যটকের পাশের রুমটি খালি ছিল। হোটেলের এক কর্মী সেই রুমে ঢুকে চেয়ারে
দাঁড়িয়ে ভেন্টিলেটর দিয়ে ওই মহিলার স্নানের দৃশ্য মোবাইলে ক্যামেরায়
রেকর্ড করছিল। মহিলা তা দেখে চিৎকার করায় ওই কর্মীকে পালাতে সাহায্য করে
হোটেলের ম্যানেজার ও রিসেপসনিস্ট। এরপরই ওই দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।
আইনজীবী
অভিষেকবাবু বলেন, বাথরুমের যে জায়গা থেকে ভিডিও রেকর্ড করা হচ্ছিল সেই
প্রমাণ নষ্ট করার জন্য সিমেন্ট দিয়ে গাঁথনি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তা থেকেই
প্রমাণিত এর পিছনে বড় র্যাকেট রয়েছে। এর আগেও অনেকের ভিডিও রেকর্ড করা হয়ে
থাকতে পারে। এই ধরনের ভিডিও চড়া দামে বিক্রি করা হয়। তা বিভিন্ন ওয়েবসাইটে
আপলোড করা হয়। এর সঙ্গে বিদেশি যোগ থাকতে পারে। পুলিস-প্রশাসনের উচিত
দ্রুত ওই হোটেল সিল করে দেওয়া। সরকারি আইনজীবী বলেন, প্রথমে পুলিস জামিন
যোগ্য ধারায় মামলা শুরু করে। এদিন পুলিসের পক্ষ থেকে আদালতে আরও কিছু
জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত করার আবেদন করা হয়। বিচারক তা মঞ্জুর করেছেন।
পুলিস
জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে মূল অভিযুক্তের খোঁজ পাওয়ার পাশাপাশি
মোবাইলটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। এক মহিলা পর্যটক বলেন, তীর্থভূমিতেও
এমন ঘটনা কল্পনা করতে পারছি না। আমরা আতঙ্কে ভুগছি। পুলিস দোষীদের
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক। হোটেল মালিক প্রকাশচন্দ্র মণ্ডল
বলেন, দেড় মাস আগে ওই যুবক কাজে লেগেছিল। তার বাড়ি বর্ধমানে। দু’টি
বাথরুমের মাঝে ভেন্টিলেটরে নেট লাগানো ছিল। এপার থেকে ওপার দেখা যায় কিনা
খতিয়ে দেখিনি। ওইদিন হোটেলে ওই পর্যটকরা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। অভিযোগ
সত্যি হলে সেই সুযোগটা সে পেয়ে গিয়েছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন