জঙ্গিপুর: ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় তুমুল উত্তেজনা ছড়াল মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে। সংখ্যালঘু ছাত্রযুবদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল থেকে দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে জড়ালেন আন্দোলনকারীরা। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় পুলিশের গাড়িতে।
ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় বিধায়ক জাকির হোসনকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ককে অতিসত্ত্বর ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবরাই স্থানীয়দের নিয়ে বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন বিধায়ক।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় সংখ্যালঘু ছাত্র ও যুব সংগঠনের ডাকে আন্দোলন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল বিকেলে। জঙ্গিপুরের ওমরপুর মোড় থেকে ধুলিয়ান বাজার পর্যন্ত একাধিক জায়গায় জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে সংখ্যালঘু ছাত্র সংগঠন। কয়েক হাজার ইসলামিক সংগঠনের ছাত্রযুব বিক্ষোভে শামিল হন। তাতে অবরুদ্ধ হয় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। স্তব্ধ হয়ে যায় উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের সড়কপথে যোগাযোগ। দীর্ঘক্ষণ জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। রাস্তায় আটকে যায় অ্যাম্বুল্যান্স থেকে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কিছু গাড়ি। খবর পেয়ে অবরোধ তুলতে যায় পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের ইটবৃষ্টির মুখে পড়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় পুলিশ। বাড়তি পুলিশ বাহিনী ডেকে বিক্ষোভকারীদের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করে পুলিশ। শুরু হয় খণ্ডযুদ্ধ। ওই সময় বিক্ষোভকারীরা বেশ কিছু গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেন। বাদ যায়নি পুলিশের গাড়িও।
অন্য দিকে, বিনা প্ররোচনায় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো এবং লাঠিচার্জের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে খবর, তাদের দু'টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রচেষ্টায় পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। এলাকায় বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট। বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেসের প্রাক্তন নেতা অধীর চৌধুরীর দাবি, পুলিশের বাড়াবাড়িতেই এই গন্ডগোল হয়েছে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি সামলাতে প্রয়োজনে সেনা নামানো হোক।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন