আমেদাবাদ: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে জঙ্গি হানায় মৃত্যু হয়েছে গুজরাতের বাসিন্দা শৈলেশ হিম্মতভাই কালথিয়ার। বৃহস্পতিবারই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সুরাতের মোটা ভারাচা এলাকায় কস্তুরি বাংলো সোসাইটিতে হাজির হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সি আর প্যাটেল, স্থানীয় সাংসদ মুকেশ দালাল, গুজরাতের মন্ত্রী হর্ষ সাংভি। এছাড়া, কয়েক হাজার মানুষও চোখের জলে বিদায় জানান শৈলেশকে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাংসদের সামনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের স্ত্রী শীতল বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গিয়েছে।
এখন ছবি তুলতে সমস্ত রাজনীতিবিদ, আধিকারিক, নিরাপত্তাকর্মীরা আসছেন। যখন তাঁদের সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল, সেইসময় কেউ রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। আমার স্বামীর মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে জঙ্গিরা।’ এই পরিস্থিতির জন্য মোদি সরকারকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন স্বামীহারা ওই মহিলা। শীতলের প্রশ্ন, দেশে এ কেমন সরকার চলছে, যারা নিজেদের জনগণকেই রক্ষা করতে পারে না? তিনি আরও বলেন, ‘ভিআইপিদের জন্য ডজন ডজন গাড়ি, হেলিকপ্টার—কত আয়োজন হয়। এই সবই হয় আমাদের করের টাকায়। তাহলে সমস্ত সুবিধা শুধু ভিআইপিরাই পাবেন কেন? সাধারণ মানুষের কী হবে? আমার স্বামীর যখন নিরাপত্তার প্রয়োজন ছিল, সেইসময় আমরা কোনও সাহায্য পেলাম না।’
এমনকী নিরাপত্তা বাহিনীর থেকে সাহায্য চেয়েও পাননি বলে অভিযোগ শীতলের। তাঁর দাবি, সাহায্যের জন্য এক সেনা-জওয়ানকে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি পাল্টা বলেন, ‘এখানে কী করছেন? ঘুরে বেড়াচ্ছেন?’ এরপর তিনি আরও বলেন, সরকার যদি নিজেকে রক্ষা করতে ব্যস্ত থাকে, তাহলে তাই করুক। আমাদের থেকে ভোট আশা করবেন না।’ সেই সময় পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পাতিল। তাঁকে শীতল প্রশ্ন করেন, ‘আপনি তো সুরাতেই থাকেন? তাহলে বলুন, আপনি আমার স্বামী, আমাদের জন্য কী করবেন? আরও অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের কী হবে?’ স্বামীহারা মহিলার প্রশ্নে বেকায়দায় পড়ে যান মন্ত্রী। সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাতে শীতলদেবী ফের ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বলেন, সরকার সবসময় বলে এটা করব, ওটা করব। কিন্তু, কিছু করে না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন