ধুলিয়ান: সামশেরগঞ্জে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে গিয়ে ডান দিকে ঢুকে গেলে ধুলিয়ান। কিছুটা যেতেই রাস্তার উপর কঙ্কালের মতো সার বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে পোড়া-ভাঙা গাড়ি। কোথাও আবার ছড়িয়ে রয়েছে গাড়ির ভাঙা পার্টস। দোকানের ভাঙা শাটার... কোনওটা ঝুলছে, কোনওটা পাথরের আঘাতে শতছিদ্র। লুট হয়ে যাওয়া দোকানগুলো পড়ে আছে নিথর শবের মতো। সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে যাওয়া জিনিসপত্র। বাতাসে এখনও পোড়া গন্ধ। উড়ে আসছে ছাইয়ের ‘গুঁড়ো’। এটাই ধুলিয়ানের রবিবারের ছবি। শনিবার বিকেল পর্যন্ত চলা অশান্তি আমচকা স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। সৌজন্যে রাজ্য পুলিসের ডিজি রাজীব কুমার সহ শীর্ষ আধিকারিকদের এই এলাকায় উপস্থিতি এবং তাঁদের নেতৃত্বে লাগাতার টহল ও ধরপাকড়। সঙ্গে প্রায় ৮০০ আধাসেনা জওয়ানের রুটমার্চ। জঙ্গিপুর মহকুমাজুড়ে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। রবিবার রাত পর্যন্ত অশান্তির ঘটনায় গ্রেপ্তারির সংখ্যা প্রায় ১৮০।
জিরো টলারেন্স। এই একটা পদক্ষেপেই পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে মুর্শিদাবাদের এই মহকুমায়। রাতেই সামশেরগঞ্জ থানায় বসে অশান্তি ঠেকানোর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে ফেলে পুলিস ও বিএসএফ। রাজ্য পুলিসের আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বিএসএফের আইজি কারনি সিং শেখাওয়াত। রাতভর টহল চলে গোটা ধুলিয়ানে। পুলিস ও বিএসএফের বুটের শব্দে ‘নিশ্চিন্ত’ রাত নামে পাড়া ও মহল্লায়। তবে আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। এদিন সকালেও ধুলিয়ান ছিল থমথমে। মানুষ বাড়ির দরজা জানলা খুলে উঁকি দিলেও কেউ খুব একটা বাইরে বেরননি। দুপুরের পর পুলিস ঘোষণা করে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। যে সব জায়গায় অশান্তি হয়েছিল এবং অশান্তির সম্ভাবনা আছে, সেখানে অবশ্য বিশাল পুলিস বাহিনী ও বিএসএফকে পাঠিয়ে রুটমার্চ করানো হয়েছে। ডিজি রাজীব কুমার রবিবার দিনভর সামশেরগঞ্জ থানায় বসে সার্বিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছিলেন। এদিন জাতীয় সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল হয়েছে।
সামশেরগঞ্জ, সূতি ও রঘুনাথগঞ্জের যে সব এলাকায় তাণ্ডব চলেছিল, সেখানে যদিও ঝুঁকি নেয়নি প্রশাসন। সর্বত্রই প্রচুর পরিমাণে পুলিস ও বিএসএফ মোতায়ন ছিল। ধুলিয়ান এলাকার বাজার-দোকানপাট না খুললেও সূতি ও রঘুনাথগঞ্জে এদিন জনজীবন ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ধুলিয়ানের বাসিন্দা এক মহিলা বলেন, ‘দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করি। এমন হিংসাত্মক ঘটনা কখনও দেখিনি। শুক্রবার রাত থেকে চোখের পাতা এক করতে পারিনি। গত রাতে প্রচুর পুলিস এবং বিএসএফ এলাকায় আছে দেখে কিছুটা আশ্বস্ত হতে পেরেছি। প্রয়োজন ছাড়া কেউই বাড়ির বাইরে বের হচ্ছি না।’ জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার আনন্দ রায় দুপুরে জানিয়েছেন, ‘সার্বিক পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো। সব নিয়ন্ত্রণে আছে।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন