ওয়াশিংটন: ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হয়েই ঘোষণা করেছিলেন আমেরিকাকে ফের ‘গ্রেট’ বানাবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ যে তাঁর নীতি নিয়ে তিতিবিরক্ত তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। শনিবার ট্রাম্পের বিরোধিতা করে রাস্তায় নামলেন হাজার হাজার সাধারণ মার্কিন নাগরিক। বিক্ষোভ মিছিল থেকে বার্তা দেওয়া হল ‘আমেরিকার কোনও রাজা নেই।’ অর্থাত্, ট্রাম্প যেভাবে খেয়াল খুশিমতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাতে সায় নেই সাধারণ জনগণের। শুল্ক নীতি, গর্ভপাত নিষিদ্ধ, বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা হ্রাসের প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড দেখা যায় মিছিলগুলিতে। ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার মাস তিনেকের মধ্যেই এমন বিক্ষোভে স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেড়েছে রিপাবলিকান সরকারের উপরে। রাজধানী ওয়াশিংটনেই ২০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হন। তাতে তরুণ প্রজন্ম থেকে শুরু করে শিশুদেরও দেখা গিয়েছে। এছাড়া নিউ ইয়র্ক, হিউস্টন, ফ্লোরিডা, কলোরাডো ও লস এঞ্জেলসের মতো অন্য বড় শহরগুলিতেও বিক্ষোভে শামিল হয় প্রচুর মানুষ। একটি সংগঠন জানিয়েছে, দেশের অন্তত হাজারটি এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের ভুল পদক্ষেপের জন্য আমেরিকা বিশ্বমঞ্চে বন্ধুদের হারাচ্ছে। আর তার প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর। নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা পেশায় চিত্রশিল্পী সাইনা কেসনার ম্যানহাটনে বিক্ষোভের ফাঁকে বলেন, ‘আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। কয়েকজন সুবিধাপ্রাপ্ত, সাদা চামড়ার ধর্ষক আমাদের দেশ চালাচ্ছে। এটা মোটেই ভালো নয়।’ হোয়াইট হাউসের অদূরে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলের সামনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও গাড়িতে মানুষ এসে জমায়েত করে। সেখানে ভাষণ দেন ডেমোক্র্যাট নেতা জেমি রাসকিন। তিনি অভিযোগ করেন, কোনও নীতিনিষ্ঠ মানুষ এমন অর্থনীতি ধ্বংসকারী স্বৈরাচারী শাসককে মেনে নিতে পারবে না। বোস্টনে ডমিনিক সান্টেলা নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা স্বৈরাচারীকে থামাতে রাস্তায় নেমেছি।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন