কলকাতা: যাঁদের যায়, শুধুমাত্র তাঁরাই জানেন সন্তান হারানোর যন্ত্রণা। ছোট্ট প্রাণ মাতৃগর্ভে তিলে তিলে বড় হয়ে উঠল। একদিন আধবোজা চোখে দিনের আলোও দেখল। বাবা-মায়ের আনন্দের সীমা-পরিসীমা নেই। অথচ এক মাস বয়স হতে না হতেই চোখের সামনে মৃত্যু হল তার। চিকিৎসকরা জানালেন, দুরারোগ্য হার্টের অসুখ হয়েছিল। চেষ্টা করেও বাঁচানো যায়নি। দেশে প্রতি বছর আড়াই লক্ষের মতো শিশু হার্টের জন্মগত অসুখ নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। এক বছরের কমবয়সি প্রতি ১০ জন শিশুর মৃত্যুর পিছনে থাকে অন্তত একজনের হার্টের জন্মগত অসুখ। এইসব একরত্তিদের বাঁচাতে এবার দেশ তথা এশিয়ার মধ্যে প্রথম সদ্যোজাতদের জন্য ক্যাথল্যাব বসছে পিজি হাসপাতালে।
প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচ করে আনা হচ্ছে এই অত্যাধুনিক যন্ত্র। হাসপাতালের গাইনি বিভাগের উল্টোদিকে সদ্যোজাত শিশুদের চিকিৎসা ও অপারেশনের জন্য তৈরি হচ্ছে ন’তলা পেরিনেটোলজি বিভাগের বাড়ি। তারই আটতলায় বসবে যন্ত্রটি। সদ্যোজাত শিশুদের চিকিৎসায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা ডাঃ অরুণ সিং বলেন, এশিয়ায় কোথাও শুধুমাত্র সদ্যোজাতের হার্টের অসুখ নিরাময়ের জন্য নির্দিষ্ট ক্যাথল্যাব নেই। এটি দারুণ পদক্ষেপ। যে কোনও সাহায্যের জন্য সবসময় আছি। পিজি’র পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ লোপামুদ্রা মিশ্র বলেন, দুরারোগ্য হার্টের অসুখে আক্রান্ত সদ্যোজাতদের চিকিৎসায় প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান। সদ্যোজাত বিভাগ থেকে কার্ডিওলজি বিভাগে একটু বড় বাচ্চাদের ক্যাথল্যাবে নিয়ে যেতে যেতেই মৃত্যু হতে পারে।
ডাঃ
মিশ্র বলেন, ওই পর্বে বিশেষ ধরনের ইনকিউবেটরে বাচ্চাকে নিয়ে যেতে হয়। তা
সত্ত্বেও ব্রেন হেমারেজ হতে পারে। সুগার ফল করে বাচ্চাটি কোমায় চলে যেতে
পারে। এমনকী, হার্টে রক্তক্ষরণও হতে পারে। কিন্তু, নিয়ে যাওয়ার সময় এইসব
সামলানোর ব্যবস্থা থাকে না। তাই একই বাড়িতে ক্যাথল্যাব থাকলে প্রচুর
সুবিধা। আরও একটি বড় পরিকল্পনা করে আনা হবে যন্ত্রটি। আটতলায় ঠিক যেখানে
এটি রাখা হবে, তার উল্টোদিকেই থাকবে সদ্যোজাত শিশুদের হার্টের অপারেশন
থিয়েটার। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খুব ছোট বাচ্চাদের অনেক সময় ক্যাথল্যাব ও
চটজলদি সার্জারি— দুয়েরই দরকার পড়ে। সেক্ষেত্রে একই ছাদের তলায় দু’টি
ব্যবস্থা থাকলে সদ্যোজাতদের নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করার প্রয়োজন পড়বে না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন