সোনারপুর: পাশের পাড়ার এক যুবকের সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলেন স্বামী। সেই ঘটনা সহ্য হয়নি স্বামীর। পরিণতিতে খুন হয়েছিলেন স্ত্রী। তারপর পালিয়েও গেলেও শেষরক্ষা হল না। পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হল স্বামী। সোমবার তাকে ক্যানিংয়ের আঠারোবাঁকি থেকে পাকড়াও করে পুলিস।
সোনারপুর থানার মাহীনগরে আট বছর ধরে ভাড়াবাড়িতে থাকতেন বাপি ও প্রিয়াঙ্কা গায়েন। তাঁদের ছ’বছরের এক সন্তান রয়েছে। পাশের পাড়ায় সস্ত্রীক থাকেন সুপ্রকাশ দাস। এই দম্পতি মাস খানেক আগে ওই পাড়ায় এসে বসবাস শুরু করেছে। অল্পদিনের মধ্যেই সুপ্রকাশের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে প্রিয়াঙ্কার। পুলিস তদন্তে জানতে পেরেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই সম্পর্ক চলছিল। এর মধ্যে একদিন হাতেনাতে দু’জনকে ধরে ফেলে বাপি। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। বাপি বারে বারে স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও লাভ কিছু হয়নি।
অভিযোগ, রবিবার রাতে স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়ার পর গামছার ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে বাপি। পরের দিন সোমবার ভোরে বাড়িতে স্ত্রী’র দেহ রেখে তালা দিয়ে ছেলেকে নিয়ে গা ঢাকা দেয় বাপি। বন্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ বেরলে স্থানীয় বাসিন্দারা সোনারপুর থানায় খবর দেন। পুলিস এসে দরজা ভেঙে দেহটি উদ্ধার করে। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, এই ঘটনার পর বাসন্তীর চড়া বিদ্যাঞ্চলে মায়ের কাছে ছেলেকে রেখে আত্মগোপন করেছে বাপি। সেখান থেকে জীবনতলায় আসার সময় আঠারোবাঁকিতে পুলিসের হাতে ধরা পড়ে অভিযুক্ত। আপাতত সে পুলিস হেফাজতে রয়েছে।
যে বাড়িতে ভাড়া থাকত বাপি, সেই বাড়ির মালিক বিশ্বদীপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, দু’জনের মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো। তবে এর পিছনে যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে, তা বুঝতে পারিনি। ধৃত যুবক পুলিসকে জানিয়েছে, স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে বিরক্ত হয়েই তাঁকে খুন করেছে সে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন