কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আশ্বাস পেয়ে অনেকটাই নিশ্চিন্ত চাকরি-সঙ্কটে পড়া শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। মঙ্গলবার তাঁদের অনেকেই কর্মক্ষেত্রে ফিরেছেন। কেউ কেউ অবশ্য কাজে ফেরা নিয়ে এখনও দোলাচলে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এদিন বিকাশ ভবনে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, সেটাই চূড়ান্ত বার্তা। একাংশ কী করছে, সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত অভিরুচি।’ তবে রায় ঘোষণার পরের দিন থেকে যেভাবে বহু স্কুল ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল, সেই জায়গায় এদিন স্বাভাবিকতা অনেকটাই ফিরে এসেছে।
আর পাঁচটা কাজের দিনের মতোই এদিন স্কুলে গিয়ে ক্লাস নিয়েছেন চাকরি-সঙ্কটে পড়া বহু শিক্ষক। একইভাবে স্কুলের কাজে হাত লাগিয়েছেন শিক্ষাকর্মীরা। তবে কাজ করলেও হাজিরা খাতায় সই করবেন কি না, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে। কেউ কেউ অবশ্য সই করেছেন। প্রধান শিক্ষকদের সংগঠন ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস’-এর সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর অন্তত ৫০ শতাংশ হাজিরা বেড়েছে। তাঁর নিজের স্কুলেই চাকরি-সঙ্কটে পড়া আটজন শিক্ষক এদিন কাজে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা সইও করেছেন। পর্ষদ থেকে চাকরি বাতিলের নির্দেশ না এলে তাঁদের রোখার অধিকার কারও নেই বলেই অভিমত চন্দনবাবুর।
আরও একটি বিষয় নিয়ে সংশয়ের দোলাচলে রয়েছেন এই শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। কী সেই সঙ্কট? পরের মাসের বেতনের জন্য আগের মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সরকারের আই-ওএসএমএস পোর্টালে শিক্ষকের যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হয়। রায়ের পর থেকে সেই পোর্টাল বন্ধ রয়েছে। তাই যাঁরা স্কুলে আসছেন, তাঁদের বেতনের হিসেব কীভাবে হবে—প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সংগঠন এসটিইএ’র নেতা অনিমেষ হালদার। দ্রুত সেই পোর্টাল খুলে দেওয়ার জন্য একাধিক সংগঠনের তরফে সরকারের কাছে দরবার করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন