
লখনউ: মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে দাপট অব্যাহত লখনউ সুপার জায়ান্টসের। শুক্রবার একানা স্টেডিয়ামে শেষ ওভারে রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নিলেন ঋষভ পন্থরা। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের ১২ রানে বশ মানালেন তাঁরা। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে লখনউয়ের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২০৩। জবাবে হার্দিক পান্ডিয়ারা থামেন ৫ উইকেটে ১৯১ রানে। অর্থাত্, মোট সাত বারের সাক্ষাতে মুম্বইকে ছ’বারই হারাল লখনউ।
রান তাড়ায় শেষ ২ ওভারে ২৯ রান প্রয়োজন ছিল মুম্বইয়ের। ক্রিজে তখন সেট ব্যাটার তিলক ভার্মার সঙ্গে রয়েছেন হার্দিক। তবে ১৯তম ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের চাপে ফেলে দেন লখনউ পেসার শার্দূল ঠাকুর। এমনকী বড় শট খেলতে ব্যর্থ হওয়ায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ডাগ আউটে ফেরেন তিলক (২৫)। এরপর শেষ ওভারে দরকার ছিল ২২ রান। আভেশ খানের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে হার্দিক আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত দলকে জেতাতে ব্যর্থ। উল্লেখ্য, মুম্বই ক্যাপ্টেন এদিন বল হাতেও পাঁচটি উইকেট নিয়েছিলেন। ব্যাটিংয়ে মরিয়া চেষ্টা চালালেন। কিন্তু তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্স বিফলে গেল।
তার আগে রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনার উইল জ্যাকস (৫) ও রিকেলটনকে (১০) হারায় মুম্বই। তবে চাপের মুহূর্তে নমন ধীরের ঝোড়ো ৪৬ রানের ইনিংস অক্সিজেন জোগায় হার্দিক-ব্রিগেডকে। এরপর চতুর্থ উইকেটে সূর্যকুমার-তিলক জুটি স্কোরবোর্ডে যোগ করেন মূল্যবান ৬৬। ৩১ বলে অর্ধশতরান পূর্ণের পর ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন সূর্যকুমার। তবে মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রিকে আউট করে লখনউকে ম্যাচে ফেরান আভেশ। ৪৩ বলে সূর্যের ৬৭ রানের ইনিংস সাজানো ছিল ৯টি চার ও ১টি ছক্কায়। এরপর রীতিমতো ম্যাচে জাঁকিয়ে বসে লখনউয়ের বোলাররা। আলাদা করে উল্লেখ করতে হবে তরুণ স্পিনার দিগ্বেশ রাঠির। চার ওভারে ২১ রানের বিনিময়ে ১টি উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা প্লেয়ারও নির্বাচিত হন তিনি। শেষদিকে লখনউ বোলারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ের সামনে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেননি হার্দিকরা।
শুক্রবার মাঠে নামার আগেই অবশ্য ধাক্কা খেয়েছিল মুম্বই। নেটে চোট পেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যান হিটম্যান রোহিত শর্মা। টস জিতে হোম টিমকে ব্যাট করতে পাঠান পান্ডিয়া। আর শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন মিচেল মার্শ। শেষ পর্যন্ত এই অজি তারকাকে (৩১ বলে ৬০ রান) ফিরিয়ে মুম্বই শিবিরে স্বস্তি আনেন ভিগনেশ পুথুর। পুরানের (১২) ব্যাট থেকে অবশ্য বড় রান আসেনি। ব্যর্থ ঋষভও (২)। এই পর্বে কয়েকটা উইকেট পড়লেও দলের উপর চাপ আসতে দেননি মার্করাম (৩৮ বলে ৫৩)। শেষদিকে মিলারের (২৭) ব্যাটে দুশোর গণ্ডি টপকায় হোম টিম। মুম্বইয়ের সফলতম বোলার হার্দিক (৫-৩৬)।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন