
ইতিমধ্যেই এস পি মুখার্জি রোডের উপর উদ্বোধনী মঞ্চ তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন স্কাইওয়াকের ‘ফিনিসিং টাচ’ চলছে। এই পথে হেঁটে মন্দির দর্শন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। স্কাইওয়াকের মূল অংশটির দৈর্ঘ প্রায় ৪৩৫ মিটার। এস পি মুখার্জি রোড থেকে কালী টেম্পল রোড ধরে তা সোজা চলে গিয়েছে মন্দির চত্বরে। পাশাপাশি কালীঘাটের ফায়ার ব্রিগেডের দিক থেকেও একটি ৩০ মিটার দীর্ঘ ফ্ল্যাংক বা শাখা স্কাইওয়াকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সেখান দিয়েও মন্দিরে আসা যাবে। প্রবেশ এবং প্রস্থান পথ সহ বিভিন্ন অংশে মোট পাঁচটি মাথায় চূড়া বা ডোম বসানো হয়েছে। রয়েছে চলমান সিঁড়ি ও লিফট। পাশাপাশি স্কাইওয়াকের পাশে থাকা নতুন হকার্স মার্কেটের তিনতলা থেকেও প্রবেশ এবং বেরনোর সুযোগ থাকছে। এর পাশাপাশি কালী টেম্পল রোড থেকে দখলদার সরিয়ে রাস্তা ও ফুটপাত চওড়া করা হয়েছে।
স্কাইওয়াক অর্ধ গোলাকার লোহার কাঠামো সহ আধুনিক পলিকার্বনেট শিটে মুড়ে তৈরি। এক পুরকর্তা বলেন, এস পি মুখার্জি রোড, ফায়ার ব্রিগেড দিয়ে মহিম হালদার স্ট্রিট ধরে গুরুপদ হালদার পাড়া রোড, সদানন্দ রোড, কালী টেম্পল রোড সহ মোট পাঁচটি জায়গায় স্কাইওয়াকে ঢোকা ও বেরনোর গেট রয়েছে। মন্দিরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চূড়া ও তার গায়ের ডিজাইন হয়েছে। বিশেষ শিটের উপর ফুটে উঠেছে কালীর মুখ, মন্দির, জবা ফুল ইত্যাদির প্রতিকৃতি।
একনজরে কালীঘাট স্কাইওয়াক
দৈর্ঘ্য ৪৩৫ মিটার
চওড়া ১০.৪ মিটার
রাস্তা থেকে ৬.৫ মিটার উঁচু
১২টি এলইডি টিভি
১৫টি সিসি ক্যামেরা
পাঁচটি ডোমে পাঁচ ঝাড়বাতি
পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হয়েছিল স্কাইওয়াকের কাজ। তখন বলা হয়েছিল, ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। তারপর তিনবার পিছিয়েছে সময়সীমা। বিলম্ব হওয়ায় ২০২৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পূর্তদপ্তর, পুরসভার দশ আধিকারিককে নিয়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি গঠন হয়। ঠিক হয়, কমিটি নিয়মিত স্কাইওয়াকের কাজের তদারকি করবে। তারপরও একাধিকবার কাজ শেষের সময়সীমা পিছিয়ে যায়। অবশেষে গত বছর আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হয় তা। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কথায়, স্কাইওয়াক তৈরি করতে গিয়ে প্রথম থেকেই নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। হকার এবং ব্যবসায়ীদের সরাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে পুর প্রশাসনকে। ভূগর্ভস্থ একাধিক পাইপলাইন সরাতে গিয়েও জটিলতা দেখা দেয়। তাছাড়া বারবার ডেডলাইন মিস হওয়ায় নির্মাণকারী সংস্থার গড়িমসিও দায়ী। ফলে প্রকল্পের খরচ বেড়ে যায়। ৭৭ কোটি টাকা বাজেট থাকলেও খরচ ছুঁয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন