রানাঘাট: ফের আরও এক গ্রীষ্মের দুয়ারে দাঁড়িয়ে কুপার্স। কিন্তু, এখনও অধরা পানীয় জল সরবরাহ। প্রায় এক যুগ আগে যে ‘আশা’ দেখেছিলেন এই উপশহরের মানুষ, আজও তা বিশবাঁও জলে। নির্বাচনহীন এবং বোর্ডহীন পুরসভা কবে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতে পারবে জল? সাধারণ মানুষের প্রশ্ন করার জায়গাটুকুও নেই। ভোট আসে, ভোট যায়, কিন্তু কুপার্স ক্যাম্প নোটিফায়েড এরিয়ায় পানীয় জলের সরবরাহ নিয়ে নেতাদের ‘আশ্বাস’ আর বাস্তবে বদলায় না। এমনকী, ভোট প্রচারে এসে খোদ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দত্তপুলিয়ার জনসভা থেকে কুপার্স অঞ্চলের পানীয় জল প্রকল্পের কাজ নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, দ্রুত পানীয় জলের সমস্যা মিটে যাবে। ক্যালেন্ডার বলছে, সেই ঘটনার পরেও প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত। কিন্তু, এখনও পানীয় জল সরবরাহ শুরুই হল না।
১২টি ওয়ার্ডের কুপার্স ক্যাম্প নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি অঞ্চলে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের তরফে শহরজুড়ে পাইপ লাইন পাতা হয়েছে। কিন্তু, চাকদহ থেকে সেই জল আনার মূল লাইন সংযোগ এখনও হয়নি। অথচ বাড়ি বাড়ি কানেকশন দেওয়া হয়ে গিয়েছে আগেই। কিন্তু, সেই কলগুলি দিয়ে জল কবে পড়বে? এখনও ধোঁয়াশা রয়েছেই।
পানীয় জল সরবরাহ নিয়ে কুপার্সবাসী প্রথম ‘আশার আলো’ দেখেছিলেন ২০১৩ সালে। শহরের ৭নম্বর ওয়ার্ডে একটি উচ্চ জলাধার নির্মাণ করা হয়েছিল। তৎকালীন আম্রুত প্রকল্প না থাকায়, পুরসভাই সেই উদ্যোগ নিয়েছিল। যদিও তার বাস্তবায়ন আর হয়নি। মাঝে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর সেই জলাধার ব্যবহার করে পানীয় জল পরিষেবার পরিকল্পনা করে। কিন্তু, এখানকার ভূগর্ভস্থ জলে প্রচুর পরিমাণে আর্সেনিক রয়েছে। ফলে সরাসরি গঙ্গার জল উত্তোলন করে তা পরিশোধনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়। ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি ১ নম্বর ওয়ার্ডেও একটি পাম্পিং স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা নেয় পিএইচই। সেইমতো শহরজুড়ে পাইপ লাইন পাতা হয়। বাড়ি বাড়ি দিয়ে দেওয়া হয় কানেকশন। কিন্তু, গঙ্গা পর্যন্ত তার সংযোগ আজও হয়নি। অথচ, প্রতিবছর গ্রীষ্মের সময় পানীয় জলের সঙ্কট দেখা দেয় কুপার্স এলাকায়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন