জলপাইগুড়ি: ১১ বছরের নাবালিকাকে যৌন নিগ্রহে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির ২০ বছরের জেল হল। শুক্রবার ওই সাজার নির্দেশ দেন জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক রিণ্টু শূর। ২০২৩ সালের ৯ জুলাই ঘটনাটি ঘটে বানারহাট থানা এলাকায়। ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১০ জুলাই পুলিসে অভিযোগ দায়ের করে নাবালিকার পরিবার। দু’বছরেরও কম সময়ে মামলার সাজা হওয়ায় খুশি নির্যাতিতার পরিবার।
মামলার সরকারপক্ষের আইনজীবী দেবাশিস দত্ত বলেন, বাবা মারা যাওয়ায় ওই নাবালিকা ও তার ভাইকে নিয়ে মেয়েটির মা শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে থাকতেন। ঘটনার দিন মহিলার শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁদের মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। নাবালিকার মা সকালে কাজে চলে যান। ভাইয়ের সঙ্গে মেয়েটি বাড়িতে ছিল। দুপুরে অভিযুক্ত ব্যক্তি নাবালিকার দাদুর বাড়িতে আসে। পাশাপাশি বাড়ি তাদের। অভিযুক্তকে মেয়েটি জ্যাঠা বলে ডাকত। কুমতলবে বাড়িতে এসে প্রথমে সে নাবালিকার ভাইকে টাকা দিয়ে দোকানে খাবার কিনতে পাঠায়। তারপর নাবালিকাকে ঘরে টেনে নিয়ে গিয়ে তার উপর যৌন নির্যাতন চালায়। এরপর মেয়েটি কান্নাকাটি করতে থাকায় অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। বিকেলে কাজ থেকে বাড়ি এলে মাকে গোটা ঘটনাটি জানায় ওই নাবালিকা। তিনি সঙ্গে সঙ্গে এলাকার লোকজনকে বিষয়টি জানান। তারপর স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হন। সেসময় বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
পরদিন বানারহাট থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন
নাবালিকার মা। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে
পুলিস। পকসো আইনের ৬ ধারায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়ে আদালতে। মামলায়
নির্যাতিতা নাবালিকা, তার মা সহ মোট সাতজন সাক্ষ্য দেন আদালতে।
আদালতে
জমা পড়া সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত
করে আদালত। এদিন বিচারক তাকে ২০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ছাড়াও ৫০ হাজার টাকা
জরিমানা, অনাদায়ে আরও দু’মাস জেলের নির্দেশ দিয়েছেন। সেইসঙ্গে নির্যাতিতা
ওই নাবালিকাকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ডিস্ট্রিক্ট
লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন