ওয়াশিংটন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক নীতির জেরে মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞই। চড়া হারে আমদানি শুল্কে মার্কিন মুলুকে জিনিসপত্রের দামও মহার্ঘ হতে চলেছে। এমনই হিসেব-নিকেশের মাঝেই আপাতত শুল্ক-নীতি স্থগিত রেখেছিলেন ট্রাম্প। তবে তা তিনমাসের জন্য। এই অবকাশের মাঝেই ফের বড় ঘোষণা ট্রাম্পের। এবার স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিন সামগ্রীকে পাল্টা শুল্কের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হল।
এই সব হাই-টেক পণ্যে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে এই সব পণ্য কিনতে বাড়তি দাম থেকে রেহাই পাবেন আমেরিকানরা। শুক্রবার এব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে মার্কিন কাস্টমস ও বর্ডার প্রোটেকশন অফিস। ঘোষণায় নাম না করা হলেও এই ছাড়ের তালিকায় চীন থেকে আসা স্মার্টফোন ও উপাদান সহ অন্যান্য বৈদ্যুতিন সামগ্রীও রয়েছে। নয়া ঘোষণায় অন্যান্য দেশের উপর আরোপিত ১০ শতাংশ ও চীনের ক্ষেত্রে ১৪৫ শতাংশ শুল্ক থেকে ওই পণ্যগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। শুল্ক-নীতিতে ট্রাম্পের স্থগিতাদেশে ঠাঁই হয়নি ড্রাগনের দেশের। কিন্তু সাম্প্রতিক শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত জি জিনপিংয়ের দেশ কিছুটা হলেও স্বস্তির শ্বাস ফেলতে পারে।
শুক্রবারের সিদ্ধান্তে সেমিকন্ডাক্টরের মতো পণ্যকেও শুল্ক ছাড়ের আওতায় রাখা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সোলার সেল ও মেমোরি কার্ডও। ট্রাম্পের শুল্ক- অস্ত্রের খোঁচায় আমেরিকায় গ্যাজেটের দাম আকাশ ছোঁবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে সেদেশের টেক কোম্পানিগুলি। কারণ, এই সবের বেশিরভাগই চীন থেকে আমদানি করা হয়। শুল্ক বহাল থাকলে আইফোন ও অন্যান্য বৈদ্যুতিন সামগ্রীর দাম আমেরিকায় তিন গুণ বাড়তে পারে বলে অনুমান। আইফোনের সবচেয়ে বড় বাজার হল আমেরিকা। গত বছর অ্যাপলের অর্ধেক ফোনের বিক্রি হয়েছিল সেখানে। কোম্পানির ফোনের ৮০ শতাংশই আসে চীন থেকে। বাকি ২০ শতাংশ ভারত থেকে। অ্যাপলের পাশাপাশি স্যামসংয়ের মতো সংস্থাও লাভবান হবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন