বিধবাদের কুপ্রথা থেকে মুক্তি দিতে এগিয়ে এল সাড়ে সাত হাজার গ্রাম - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫

বিধবাদের কুপ্রথা থেকে মুক্তি দিতে এগিয়ে এল সাড়ে সাত হাজার গ্রাম



মুম্বই: ব্রিটিশ শাসিত ভারতে ১৮২৯ সালে রদ করা হয়েছিল সতীদাহ প্রথা। ১৮৫৬ সালে চালু হয়েছিল বিধবা বিবাহ আইন। তারপরও একের এক কুসংস্কার রদ হয়েছে। সেই তালিকায় নয়া সংযোজন মারাঠাভূমি। শত শত বছরের অন্ধবিশ্বাসকে বিদায় জানালেন গ্রামবাসীরা। সাড়ে সাত হাজারের বেশি গ্রাম থেকে মুছে ফেলা হল মহিলাদের বৈধব্যের কঠোর রীতি-নীতি।



সাম্প্রতিককালে মহারাষ্ট্রে ২৭ হাজার পঞ্চায়েতের ৭৬৮৩টি গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে সভা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিধবা মহিলাদের সঙ্গে কোনওরকম বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। সম্মানহানি, মানসিকভাবে আঘাতের মতো কোনও প্রথা তাঁদের উপর চাপিয়ে দেওয়া চলবে না। সমাজকর্মী প্রমোদ জিনজাদে বলেন, বিধবাদের উপযুক্ত সম্মান দিতে আমরা দীর্ঘদিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। তাঁর উপর আরোপিত কুপ্রথাগুলি লুপ্ত করাই আমাদের লক্ষ্য। 

লড়াইটা শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে কোলাপুর জেলার হেরওয়াদ থেকে। ওই বছরের ৪ মে গ্রামসভার মাধ্যমে একটি প্রস্তাব পাশ করা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, বৈধব্য সংক্রান্ত বিধিনিষেধগুলিকে বিদায় জানাতে হবে। সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে তাঁদেরও। বিধবাদের মঙ্গলসূত্র ত্যাগ, পায়ের আংটি খুলে ফেলার মতো নিয়ম আর মানতে হবে না। স্বামী মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে হাতের চুড়ি ভেঙে ফেলা, সিঁথির সিঁদুর মুছে ফেলার মতো প্রথাও রদ করা হয়। পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে সচেতনার কাজে নেমে পড়েন বহু সমাজকর্মী। তারপর থেকে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি গ্রামে সভা হয়েছে।

 বেশকিছু গ্রামে ইতিমধ্যেই গণপতি পুজো, হলদি-কুমকুম অনুষ্ঠান এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে বিধবাদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। গত বছর বিধবাদের সমস্যা সমাধান করতে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলিকে পরামর্শ দিয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। হেরওয়াদের প্রাক্তন সরপঞ্চ এস পাতিল বলেন, বিধবাদের উপর আরোপ করা বিধিনিষেধ বাতিল হয়ে গিয়েছে। কয়েকজন বিধবার পুনরায় বিয়েও হয়েছে। কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন