হরিশ্চন্দ্রপুর: প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তার কাজে অনিয়ম। পেভার মেশিনের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে মোবাইল হটমিক্স মেশিন(ম্যানুয়াল)। শিডিউল মেনে হচ্ছে না কাজ। এই অভিযোগ তুলে শনিবার রাস্তার কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভে শামিল হলেন স্থানীয়রা। বিক্ষোভের জেরে এদিন বন্ধ থাকে কাজ। হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েতের জগন্নাথপুর এলাকায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে প্রশাসন তা সামাল দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে
প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীন মালিওর বাঁধ কোরিয়ালি ফরেস্ট থেকে
শুরু করে জগন্নাথপুর হয়ে ফতেপুর পর্যন্ত ৭.৪২০ কিমি রাস্তার কাজ চলছে।
প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে এই রাস্তা নির্মাণ হবে। অভিযোগ, শিডিউল না মেনে
নিম্নমানের কাজ করছেন ঠিকাদার। যতটা পিচের আস্তরণ দেওয়ার কথা, তা হচ্ছে
না। ফলে অল্পদিনেই রাস্তাটি ভেঙে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এরপরই
এদিন কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়দের একাংশ। ঠিকাদারকে বারবার বলার
পরও সমস্যা না মেটায় প্রতিবাদ জানানো হয়। নিয়ম মেনে রাস্তার কাজ না করা হলে
ফের আন্দোলন হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।
মহম্মদ হেবজুর আলি
নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, রাস্তার কাজে দুর্নীতি হচ্ছে। পেভার মেশিন
দিয়ে কাজ না করে অদক্ষ শ্রমিক দিয়ে মোবাইল হট মিক্স মেশিন (ম্যানুয়াল)
দ্বারা পিচের কাজ করছেন ঠিকাদার। রাস্তাটি ১৮ ফুট চওড়া করার কথা থাকলেও সব
জায়গায় হচ্ছে না।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারের দাবি, শিডিউল
মেনে কাজ হচ্ছে। ঠিকাদার তথাগত সেন বলেন, স্থানীয়রা ভিত্তিহীন অভিযোগ
তুলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। শিডিউল মেনে কাজ করা হচ্ছে। শিডিউলে পিচের
আস্তরণ ২০ এমএম পুরু রয়েছে। তাই মোবাইল হট মিক্স মেশিন দিয়ে কাজ করা
হচ্ছে। ৫০এমএম পুরুর নীচে পেভার মেশিন দিয়ে কাজ করা যাবে না। ফরেস্টের
ভিতরে ১৭০০মিটার কাজ করতে দিচ্ছে না বনদপ্তর। অপরদিকে গ্রামের ভিতরে
রাস্তার সাইড থেকে বেড়া ও দেয়াল সরাতে অনেকেই চাইছেন না। তাই দেড় কিমি
রাস্তা এখনও পর্যন্ত পড়ে রয়েছে। আমি জেলায় বিষয়টি জানিয়েছি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন