কলকাতা: যোগ্যদের কারও চাকরি যাবে না বলে নেতাজি ইন্ডোরের সভা থেকে চাকরিহারাদের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ নিয়ে তাঁকে একযোগে আক্রমণ করলেন বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, চাকরিহারাদের এই পরিস্থিতির জন্য তিনি এবং তাঁর সরকারই দায়ী। টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়া, ওএমআর শিট নষ্ট তাঁর সরকারই করেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, কে যোগ্য, কে অযোগ্য, তা রাজ্য সরকার জানে।
মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর কটাক্ষপূর্ণ পরামর্শ, ‘আপনিই সেই তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান। আপনি তো আইনজীবী বলেন নিজেকে। তা হলে আপনিই যোগ্যদের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করুন।' মমতাকে বিঁধেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী এখন ‘সাধু' সাজার চেষ্টা করছেন। নেতাজি ইন্ডোরে চাকরিহারাদের যে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, তাকে কোনও রকম আশ্বাস বলে মানতেই নারাজ শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ‘আজ যদি যোগ্যদের বাছাই করে পাস দেওয়া সম্ভব হয়, তা হলে সেই তালিকা সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া হল না কেন ? মুখ্যমন্ত্রী আসলে নাটক করছেন। চাকরি বিক্রি করে ওঁর দল এবং ওঁর ভাইপো যে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলেছেন, তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠস্বরের রেকর্ডিংয়ে ৭৩ বার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উঠে এসেছে। সিবিআই চার্জশিটেও তা রয়েছে।'
শুভেন্দুর দাবি, ২০২২ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তদানীক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পাঁচ হাজারের বেশি ‘অযোগ্যের' চাকরি বাতিল করেছিলেন। রাজ্য সরকার যদি সেই রায় মেনে নিয়ে ‘২০০ কোটি টাকা খরচ করে সুপ্রিম কোর্টে না যেত, তা হলে যোগ্যদের এই দিন দেখতে হত না। বিরোধী দলনেতার হুঁশিয়ারি, ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রাজ্য সরকার যোগ্যদের তালিকা সুপ্রিম কোর্টে জমা না দিলে পতাকা ছাড়া বিজেপি বিধায়কেরা যোগ্য শিক্ষকদের সমর্থনে নবান্ন অভিযান করবে। চাকরিহারাদের আইনি সাহায্যেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শুভেন্দু। বলেছেন, 'আদালতে আপনারা লড়াই করুন। আইনজীবীর খরচ বিজেপি পরিষদীয় দলের তরফে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী নেতাজি ইন্ডোরের সভায় বলেছেন, ‘কেউ যদি ভুল করে, তার দায়িত্ব আমরা কেন নেব। যে মানুষটা জানেই না কী হয়েছে... আমার নামে কুৎসা করছে। জেনেশুনে আমি কারও চাকরি খাই না । অনেক বদহজম সত্ত্বেও সিপিএমের কারও চাকরি খাইনি। কারণ আমি বলেছিলাম বদলা নয়, বদল চাই।” কিন্তু সিপিএমের বক্তব্য, এর দায় মুখ্যমন্ত্রী এড়িয়ে যেতে পারেন না। সেলিমের যুক্তি, ‘মুখ্যমন্ত্রীই বলতেন ২৯৪ কেন্দ্রে উনিই প্রার্থী। অতএব বেহালা পশ্চিমে উনিই প্রার্থী। ছিলেন। অতএব যাহা পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তাহাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ জানি না বলে সাধু সাজলে হবে না।”

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন