
ভোপাল: মধ্যরাত পেরিয়ে গিয়েছে। আচমকা মন্দিরের সামনে এসে দাঁড়াল একের পর এক এসইউভি। তার মধ্যে দু’টির মাথায় আবার জ্বলছে লালবাতি। দলবল নিয়ে গাড়ি থেকে নেমেই জারি ফরমান, মন্দির খুলতে হবে। দেবী চামুণ্ডার দর্শন করব। কিন্তু অত রাতে মন্দির খুলতে রাজি হননি পুরোহিত। সেই ‘অপরাধে’ পুরোহিতকে বেদম প্রহারের অভিযোগ উঠল। মধ্যপ্রদেশের দেওয়াসে বিখ্যাত মাতা তেকরি মন্দিরের এই ঘটনায় শোরগোল তুঙ্গে। রবিবার কংগ্রেসের অভিযোগ, পুরোহিতকে মারধরের ঘটনায় জড়িত বিজেপি বিধায়কের ছেলে। যদিও বিজেপি সেই অভিযোগ মানতে নারাজ। শুক্রবার গভীর রাতের এই ঘটনায় শনিবার পুলিস এফআইআর দায়ের করেছে। যদিও সেখানে বিজেপির বিধায়ক-পুত্রের নাম নেই। পুলিস সুপার দীনেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ৫০টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিধায়ক-পুত্র জড়িত কি না, জানতে চাওয়া হলে সরাসরি জবাব এড়িয়ে যান পুলিস সুপার। শুধু বলেন, তদন্ত চলছে।
দেওয়াস শহরে পাহাড়ের উপর অবস্থিত চামুণ্ডা মাতার মন্দিরে শুক্রবার গভীর রাতের ওই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটওয়ারির অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের ক্ষমতার ঔদ্ধত্য বংশানুক্রমিক হয়ে পড়ছে। ইন্দোরের বিধায়ক গোলু শুক্লার ছেলে লালবাতি গাড়ি নিয়ে পৌঁছে যান দেওয়াসে মাতা চামুণ্ডা মন্দিরে। গভীর রাতে মন্দির খুলতে রাজি না হওয়ায় পুরোহিতকে মারধর করেন। ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। বিজেপি বিধায়কের ছেলের বিরুদ্ধে সব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মারধরের শিকার হওয়া পুরোহিত ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি সরকার ‘গুন্ডাদের ক্রীতদাসে’ পরিণত হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের মিডিয়া সেলের প্রধান মুকেশ নায়েকের অভিযোগ, বিজেপি নিজেদের ধর্ম ও সংস্কৃতির ঠিকাদার বলে দাবি করে। কিন্তু এই ঘটনা তাদের আসল চেহারা সামনে এনে দিয়েছে। রাত ১২টা ৪০ নাগাদ মাতা চামুণ্ডা মন্দিরে ঢুকে বিজেপি বিধায়ক গোলু শুক্লার ছেলে গুন্ডামি করছেন। পুরোহিতকে মারধর করছেন। আর বিজেপি মুখ বন্ধ করে বসে রয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র পঙ্কজ চতুর্বেদী বলেন, ঘটনার সঙ্গে দলীয় বিধায়ক বা তাঁর পুত্র জড়িত নন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন