বর্ধমান: এক ফোনেই গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে ‘সাদা পাউডার’। ক্যারিয়ারদের এটাই কোড। হঠাৎ করে ঠাহর করা যাবে না, কী নিয়ে কথা হচ্ছে। অথচ, ফোনের দু’পারের লোকই বুঝবে, কথোপকথনের ভরকেন্দ্র হেরোইন। একটা বড়সড় চক্র দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে রীতিমতো এই মাদক পাচারের জাল ছড়িয়ে ফেলেছে। সামনে টোপ হিসেবে রাখা হচ্ছে লাস্যময়ীদের। তারাই ধরছে নতুন নতুন ‘খদ্দের’। খবর দিচ্ছে ক্যারিয়ারদের। তারপরই ‘সাদা পাউডার’ চলে যাচ্ছে অভীষ্ট গন্তব্যে। আর পাচারের মাধ্যম? দামি ও বিলাসবহুল গাড়ি। সন্দেহ হবে না। অনায়াসে ধুলো দেওয়া যাবে পুলিসের চোখে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন জেলা থেকে মাদক এনে তারা বিক্রি করছে বর্ধমান এবং আশপাশের এলাকায়। একটা সময় ছিল, যখন লালগোলা থেকে চোরাই পথে মাদক পাচার হতো গোটা দেশে। রাজস্থান থেকে রীতিমতো প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে এই ধান্দায় হাত পাকিয়েছিল কারবারিরা। লাগাতার ধরপাকড়ে লালগোলার কারবার ধাক্কা খেয়েছে। এখন পুরুলিয়ার কয়েকটি এলাকা পরিণত হয়েছে রীতিমতো মাদক হাবে। আগে এখানে তেমনভাবে হেরোইনের কারবার চলত না। কিন্তু এখন পোস্ত চাষ শুরু হওয়ায় ‘কাঁচামালে’র অভাব হচ্ছে না। পোস্তর আঠা থেকে দেদার তৈরি হচ্ছে হেরোইন ও ব্রাউন সুগার। আর তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বাঁকুড়া, আসানসোল, বর্ধমান ও কলকাতায়। ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্রেও পৌঁছে যাচ্ছে এই ‘মাল’। দূরপাল্লার সরবরাহের ক্ষেত্রে পণ্যবাহী লরি ও ট্রাকের সঙ্গে সাঁট করে রেখেছে মাদক পাচারকারীরা। আর তাদের বুদ্ধি দিচ্ছে এক সময় লালগোলায় দাপিয়ে বেড়ানো মাদক কারবারিরা।
রাজ্য পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগের একটি শাখা এখন পুরুলিয়াতেই পড়ে রয়েছে। এই চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছতে চাইছে তারা। এ বিষয়ে এক গোয়েন্দা আধিকারিক বলেন, এক সময় হুগলির পাণ্ডুয়া এবং নদীয়া থেকে পূর্ব বর্ধমানে হেরোইনের পুরিয়া আসত। এখন তা আসছে পুরুলিয়া এবং ঝাড়খণ্ড থেকে। নতুন নতুন ক্যারিয়ারদের কাজে লাগানো হয়েছে। বর্ধমান শহরেও চক্রটি ভালোরকম সক্রিয়। বর্ধমানের এক বাসিন্দা বলেন, কয়েকদিন আগে হেরোইন বিক্রি করার সময় একজনকে ধরে ফেলে স্থানীয়রা। পরে সে ‘ক্ষমতা’র জোর দেখিয়ে সেখান থেকে চম্পট দেয়। হেরোইন পাচার কিন্তু তাতে বন্ধ হয়নি। মাদক কারবারিরা অভিনব কায়দায় হেরোইন বিক্রি করছে। দামি গাড়ির মধ্যেই তারা পুরিয়া রেখে দেয়। অনেক সময় আবার তাদের দেওয়া ঠিকানায় ক্রেতারা পৌঁছে যায়। ভিড়ের মাঝে কারবার চললেও অনেকেই তা টের পান না। কিন্তু ক্রেতা-বিক্রেতারা ঠিক কাজ সেরে ফেলে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন