কলকাতা: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে যখন কোনও লগ্নিকারী ক্ষতির মুখে পড়েন, তাঁরা তখন বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলিকে দোষারোপ করেন। অথচ বাজার ভালো গেলে যখন তাঁরা আর্থিক লাভ করেন, তখন নিজেদের জ্ঞানের তারিফ করেন। এটাই এখন চলতি হাওয়া। বৃহস্পতিবার ক্যালকাটা চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসে এমনই মতামত দিলেন বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) এমডি ও সিইও সুন্দররামন রামমূর্তি।
তাঁর কথায়, লগ্নিকারীরা যখন বাজারে গিয়ে আনাজপাতি কেনেন, তখন প্রতিটি আনাজ পরখ করে নেন। কিন্তু জীবনের সঞ্চয় দিয়ে যখন শেয়ারবাজারে লগ্নি করেন, তখন নিজের বুদ্ধিমত্তার উপর বিশ্বাস না রেখে অন্যের কথায় ভরসা করেন। জনশ্রুতিতে বিশ্বাস করেন। এটা কখনোই কাম্য নয়, দাবি তাঁরা। ওই কর্তার কথায়, যদি লগ্নিকারীরা নিজেদের রক্ষা করার চেষ্টা না করেন, তাহলে কোনও বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিধি বা নিয়ম জারি করে তাঁদের রক্ষা করতে পারবে না।
সাধারণ মানুষ শেয়ার বাজারের খুঁটিনাটি সম্পর্কে অবগত নন। তাহলে ছোট লগ্নিকারীরা কীভাবে লগ্নি করবেন? সুন্দররামন রামমূর্তির পরামর্শ, তাঁদের উচিত মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে শেয়ার বাজারে লগ্নি করা। সেখানেও ‘থিম’ ভিত্তিক ফান্ডের উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয় তাঁদের। অর্থাৎ কোনও একটি নির্দিষ্ট সেক্টর ভিত্তিক লগ্নি বা বাজারে যে ফান্ডে বিনিয়োগের ট্রেন্ড চলছে, সেখানেই বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ তাঁর। বরং ঝুঁকি কম, এমন ফান্ডে লগ্নিই শ্রেয়। নতুন প্রজন্ম ও মহিলাদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, রোজগারের গোড়া থেকেই একটু একটু করে শেয়ার বাজারে সঞ্চয় জরুরি। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের শেয়ারবাজারে নথিভুক্তি প্রসঙ্গে তাঁর মতামত, পূর্ব ভারত এই বিষয়ে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে আছে। যেখানে এক হাজারের বেশি সংস্থার শেয়ারবাজারে নথিভুক্তি হতে পারত, সেখানে সেই সংখ্যা মাত্র ৪০।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন