শ্রীনগর ও সংবাদদাতা, তেহট্ট: কাশ্মীরের উধমপুরের জঙ্গলে ‘কাউন্টার টেরর অপারেশনে’ গিয়ে জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারালেন এ রাজ্যের নদীয়ার এক সেনা জওয়ান। শহিদ ওই বাঙালি জওয়ান ঝন্টু আলি শেখ (৩৮) সেনার স্পেশাল ফোর্সের ৬ নম্বর প্যারার ‘হোয়াইট নাইট কোর’-এ কমান্ডো হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে সেনার হোয়াইট নাইট কোরের জিওসি সহ গোটা বাহিনী। শোকস্তব্ধ ঝন্টু আলির বাসস্থান তেহট্টের পাথরঘাটা গ্রাম।
২০০৮ সালে ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়া ঝন্টু আলির স্ত্রী ও এবং দুই সন্তান রয়েছে। স্ত্রী শাহনাজ পারভিন ১২ বছরের ছেলে এবং ছ’বছরের মেয়েকে নিয়ে আগ্রা ক্যান্টনমেন্টে থাকেন। তেহট্টের বাড়িতে বাবা সবুর আলির কাছ যেমন খবর এসেছে, তেমনই স্বামী শহিদ হয়েছেন, সেনার তরফে সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে শাহানাজের কাছেও। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া জঙ্গি বিরোধী অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন ঝন্টু আলি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার দুপুরে টেলিফোনে ঝন্টুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যে কোনও প্রয়োজনে তিনি যে শহিদ জওয়ানের পরিবারের পাশে থাকবেন, তাও জানিয়ে দেন ঝন্টু আলির জ্যাঠার ছেলে নাজিক শেখকে।
হোয়াইট নাইট কোরের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, গোপন সূত্রে খবর এসেছিল, উধমপুরের ডুডু-বসন্তগড় এলাকার জঙ্গলে ঘাঁটি গেড়েছে জঙ্গিরা। সেই খবরের ভিত্তিতে শুরু হয় কাউন্টার টেরর অপারেশন। সেনার সঙ্গে অপারেশনে ছিল জম্মু-কাশ্মীর পুলিসও। অসীম সাহসী হাবিলদার ঝন্টু আলির আত্মবলিদানকে কুর্নিশ জানাই। শোকের এই ক্ষণে গোটা বাহিনী এই জওয়ানের পরিবারের পাশে রয়েছে, সমবেদনা জানাচ্ছে তাঁদের। হোয়াইট নাইট কোর আরও জানিয়েছে, এনকাউন্টারস্থলের আশপাশ থেকে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত এনকাউন্টার চলছে বলে খবর।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ছুটিতে তেহট্টের বাড়িতে এসেছিলেন ঝন্টু আলি। সবাইকে জানিয়ে গিয়েছিলেন, আবার আসব এক বছর পর। মাত্র দু’মাসের মধ্যেই পাথরঘাটা গ্রামের ছেলে ফিরবেন। কিন্তু কফিনবন্দি হয়ে। দিন সাতেক আগে টেলিফোন করে বাড়ির সবার খোঁজখবর নিয়েছিলেন ঝন্টু। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ দুঃসংবাদটা যখন আসে গ্রামে, বাবা সবুর আলি শেখ তখন মাঠে চাষের কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। মেজ নাতি গিয়ে জানায়, কাকার গুলি লেগেছে। সবুর আলির কথায়, ‘তড়িঘড়ি বাড়ি ফিরে দেখি, বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন। পরে জানলাম ছেলে আর নেই। ছেলে শহিদ হয়েছে, দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছে, আমি গর্বিত।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন