ওয়াশিংটন: ট্যারিফ-যুদ্ধের হাত ধরে আমেরিকা-চীন বাণিজ্য-যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। চীন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, তারাও আমেরিকা থেকে আসা পণ্যের উপর সমহারে ৩৪ শতাংশ অতিরিক্ত কর চাপাবে। প্রমাদ গুনছে ইউরোপ সহ বাকি বিশ্বও। সেই প্রেক্ষিতেই ভারতের উপর আমেরিকা যে ২৬ শতাংশ কর চাপিয়েছে, তার প্রভাব বুঝতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে নয়াদিল্লি। সরকারি সূত্রে খবর, আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চলতি আলোচনা চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার পর পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে।
সেই প্রেক্ষিতেই মার্কিন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন স্বয়ং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের পাশাপাশি ভিয়েতনাম ও ইজরায়েলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনার প্রক্রিয়াতেও নজর রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এদিকে, শুল্ক যুদ্ধ শুরু হতেই দেশবাসীকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘এটি একটি অর্থনৈতিক বিপ্লব। এতে আমরা জিতব।’ তবে কঠিন পরিস্থিতির জন্য আমেরিকাবাসীকে প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের উপর পাল্টা কর চাপানো নিয়ে ট্রাম্পের দাবি, এটা আমেরিকার অর্থনৈতিক মুক্তির মুহূর্ত। পাল্টা শুল্কের প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে জোয়ার আসতে চলেছে। যদিও ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের উল্টো সুরে কথা বলতে শুরু করেছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ।
তাঁদের আশঙ্কা, মার্কিন অর্থনীতি মন্দার গ্রাসে পড়তে পারে। জেপি মর্গ্যান চেস অ্যান্ড কোম্পানির বক্তব্য, ‘আমাদের অনুমান, শুল্কের চাপে প্রকৃত জিডিপি সংকুচিত হতে চলেছে। আমাদের আগের পূর্বাভাস ছিল, জিডিপি বৃদ্ধির হার ১.৩ শতাংশ হতে পারে। কিন্তু এখন আমরা মনে করছি, জিডিপি বৃদ্ধির হার সংকুচিত হয়ে মাইনাস ০.৩ হতে চলেছে।’ আমেরিকায় এই সংস্থার মুখ্য অর্থনীতিবিদ মাইকেল ফেরোলি বলেন, এই ধাক্কার ফলে নিয়োগের পরিমাণ কমবে বলে আমাদের আশঙ্কা। এর ফলে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেয়ে ৫.৩ শতাংশ হতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন