নয়াদিল্লি: অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই নানা ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। এই আবহেই এবার কড়া পদক্ষেপ করল ভারত। ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের রাস্তা বন্ধ করে দিল নয়াদিল্লি। এতদিন এই পথেই নেপাল, ভুটান ও মায়ানমারের মতো দেশগুলিতে পণ্য রপ্তানি করত বাংলাদেশ। এবার আর সেই সুবিধা মিলবে না। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইনডিরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস (সিবিআইসি)।
২০২০ সালে বিজ্ঞপ্তি মারফৎ বাংলাদেশকে তৃতীয় কোনও দেশে পণ্য রপ্তানির জন্য ভারতের জমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল কেন্দ্র। গতবছর হাসিনা সরকারের পতনের পরও ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করেই রপ্তানি বাণিজ্য চালাচ্ছিল বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন ভারতের কাপড় ব্যবসায়ীরা। পড়শি দেশকে এই সুবিধা বন্ধের জন্য তাঁরা কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। এদিন সিবিআইসি-র তরফে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ২৯ জুনের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করা হল। এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বন্দর থেকে শুরু করে ভারতের কোনও ভূখণ্ডই রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না বাংলাদেশ। তবে যে সমস্ত পণ্যবাহী জাহাজ বা ট্রাক ইতিমধ্যেই প্রবেশ করেছে, পুরনো নিয়ম মেনে সেগুলিকে বেরিয়ে যাওয়ার সুবিধা দেওয়া হবে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের ডিরেক্টর জেনারেল অজয় সহায়। তাঁর কথায়, ‘এই সিদ্ধান্তে জামা-কাপড়, জুতো ও গয়নার ব্যবসায় আরও বেশি সুবিধা হবে ভারতের। এইসমস্ত ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। এতদিন প্রতিবেশী দেশকে জায়গা দিতে গিয়ে সমস্যা হতো ভারতীয় রপ্তানিকারীদের। এবার সেই সমস্যা মিটবে।’
সম্প্রতি চীনকে বার্তা দিয়ে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস বলেছিলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি ‘বদ্ধ এলাকা’। এজন্য নিজেদের ‘সমুদ্রের অভিভাবক’ বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়াও কোচবিহার-শিলিগুড়ি করিডোর সংলগ্ন লালমনিরহাটে চীনের মদতে নয়া এয়ার ফোর্স বেস তৈরিতে হাত লাগিয়েছে বাংলাদেশ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন