কলকাতা: ‘চাকরিহারাদের চাকরি ফেরাতে রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হবে শীঘ্রই। সবাই নিজের যোগ্যতাতেই বেতন পান। সেক্ষেত্রে যতদিন বিষয়টির ফয়সালা না হচ্ছে, ততদিন চাকরিহারাদেরও বেতন পাওয়ার অধিকার আছে।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের এই ভাষাতেই আশ্বস্ত করলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে বৃহস্পতিবার চাকরিহারাদের প্রতি তাঁর আহ্বান, কাউকে ভরসা করতে হলে তাঁরা যেন মুখ্যমন্ত্রীকেই করেন। বিরোধীদের প্ররোচনায় যেন তাঁরা পা না দেন।
বুধবারই চাকরিহারাদের বেতন প্রদানের ইঙ্গিত দিয়ে সংশ্লিষ্ট আই-এসএমএস পোর্টাল খুলেছিল শিক্ষাদপ্তর। তার পরদিন শিক্ষামন্ত্রীর কাছ থেকে এসেছে এই ইতিবাচক ইঙ্গিত। সূত্রের খবর, বেতন দেওয়া হলে কোন কোন জটিলতা তৈরি হতে পারে, তা জানতে আইনি পরামর্শ নিচ্ছে শিক্ষাদপ্তর। প্রসঙ্গত, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (ডিডিও) হন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক বা ডিআইরা। উত্তরবঙ্গের এক ডিআই বলেন, ‘দপ্তরের তরফে আমাদের কাছে বেতন বন্ধের নির্দেশ নেই। আর বেতন দেওয়ার নির্দেশ সাধারণভাবে এমনিতেও মাসের এই সময়ে আসে না। আমরা ২৬-২৭ তারিখের মধ্যে নির্দেশ পেলেই মাস পয়লা বেতন দিয়ে দিতে পারব। কারণ এখন সবটাই হয় অনলাইনে।’
শিক্ষামন্ত্রী বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসতে চলেছেন চাকরিহারাদের একটি অংশের সঙ্গে। সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমার, এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ। এই বৈঠকের আগে চাকরিহারাদের একাংশ সল্টলেকে এসএসসি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযানও করবেন। অর্থাৎ, চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা আলাপ-আলোচনার রাস্তা যেমন বন্ধ রাখতে চাইছেন না, তেমনই আন্দোলনের রাস্তা থেকেও সরে আসছেন না। আবার অন্যদিকে একটা বড় অংশই নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আগের মতোই।
কসবায় ডিআই অফিসে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের উপর পুলিসের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে এদিনই শহরে একাধিক সংগঠন মিছিল বের করে। আর জি কর আন্দোলনের চিকিৎসক মুখদেরও মিছিলে হাঁটতে দেখা যায়। তৃণমূলের একাংশের দাবি, ডিআই অফিসে আন্দোলনের নামে তাণ্ডবে বিরোধীদের একটা অংশের হাত ছিল। শিক্ষককে লাথি মারায় অভিযুক্ত পুলিসকর্মীর একটি ভিডিও তৃণমূল আইটি সেলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ওই পুলিস কর্মীকেই হেনস্তা করছেন কিছু আন্দোলনকারী।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন